ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৩ হাজার ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে। এতে ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। ছাইয়ের কারণে কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে জাকার্তা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের আনাক ক্রাকাতাউয়ে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়।
লাভা ও আগ্নেয় ছাই ছড়িয়ে পড়ে জাকার্তা ও লামপুং প্রদেশের দিকে। জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় চালু হওয়ার কথা থাকলেও আকাশসীমায় ছাই থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের পর ফ্লাইট চলাচল শুরু হতে পারে। একই সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হালিম পেরদানাকুসুমা বিমানবন্দরও। সোমবার বিমানবন্দরগুলোতে আটকা পড়া যাত্রীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অনেকে টিকিটের টাকা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ফ্লাইট চালুর সময় জানতে অপেক্ষা করেন।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আরও অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয় ছাই জাভার দিকে ৬ হাজার এবং সুমাত্রার দিকে ১৫ হাজার মিটার উচ্চতায় উঠেছে।
আনাক ক্রাকাতাউয়ের সক্রিয় জ্বালামুখের ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুন্দা প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকেও একই দূরত্বের নিষিদ্ধ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে ভয়াবহ সুনামি হয়েছিল। এতে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হন। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ ভূমিকম্প ও ৭৫ শতাংশ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এ অঞ্চলে অবস্থিত।
তথ্যসূত্র: বিবিসি


























