| |
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • ইইউর ডেনিম বাজারে শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ
  • ইইউর ডেনিম বাজারে শীর্ষস্থানে বাংলাদেশ

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেনিম বাজারে শীর্ষ সরবরাহকারী বা রপ্তানিকারক দেশের অবস্থান সাফল্যের সঙ্গে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ববাজারে ভ্যালু-অ্যাডটেড বা মূল্যসংযুক্ত পোশাক পণ্যের চাহিদার ক্ষেত্রে এটি দেশের পোশাক খাতের একটি বড় সাফল্য।

    ইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলো মোট ২৯৫ কোটি ৬২ লাখ ইউরো সমমূল্যের ডেনিম আমদানি করেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের (৩০৯ কোটি ২২ লাখ ইউরো) তুলনায় ৪.৪০ শতাংশ কম।

    তবে সামগ্রিক বছরে মন্দা থাকলেও আগস্ট মাসে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। ইইউর বাজারে বাংলাদেশের ঠিক পরেই রয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দী দেশগুলো। এই একক মাসে ইইউর ডেনিম আমদানি ১১.২৩ শতাংশ বেড়ে ৪৩ কোটি ১ লাখ ইউরোতে পৌঁছেছে। চলতি বছরের টানা মন্দার পর এটিই প্রথম সুস্পষ্ট ইতিবাচক ধারা।

    ডেনিম সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশ তার এক নম্বর অবস্থান ধরে রেখেছে। বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ৮৬ কোটি ৯১ লাখ ইউরোর ডেনিম ইইউতে গেছে, যা তাদের মোট ডেনিম আমদানির ২৯.৪০ শতাংশ।

    এই তালিকায় বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান (৫২ কোটি ৫৪ লাখ ইউরো) এবং তুরস্ক (৪৩ কোটি ৮২ লাখ ইউরো)। তবে জানুয়ারি-আগস্ট মেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানি মূল্য ৫.৮৫ শতাংশ কমেছে, যা বাজারের সামগ্রিক হ্রাসের চেয়ে সামান্য বেশি। এর ফলে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব আগের ২৯.৮৫ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২৯.৪০ শতাংশে নেমেছে।

    আগস্ট মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি ১২.৭১ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ইউরোতে দাঁড়ায়, যা বাজারের গড় প্রবৃদ্ধির (১১.২৩%) চেয়েও বেশি। আগস্টে ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের একক অংশীদারত্ব বেড়ে দাঁড়ায় ৩১.১৭ শতাংশে (গত বছর যা ছিল ৩০.৭৬%)।

    মূলত আগস্ট মাসের এই ভালো পারফরম্যান্সের কারণেই জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানিতে থাকা ৮.৫৯ শতাংশের পতন হ্রাস পেয়ে ৮ মাসে ৫.৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

    ইউরোপের ডেনিম বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তুরস্ক থেকে ইইউ-এর ১১ কোটি ৭০ লাখ ইউরো বা ২১.০৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা ইইউর সামগ্রিক ডেনিম আমদানি কমার মূল কারণ। এছাড়া মরক্কোর ১৪.৪৮ শতাংশ, পাকিস্তান থেকে ৭.৮৮ শতাংশ, কম্বোডিয়ার ৬.৪৭ শতাংশ এবং তিউনিসিয়ার ৬.৪৪ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।

    অন্যদিকে মিসর থেকে ৩১.৪৬ শতাংশ, চীন ১৭.৭০ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ৪৫.৩৮ থেকে আমদানি শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ তার প্রথাগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ভালো করলেও তুরস্ক যে বাজার হারিয়েছে, তার বড় অংশ নিজের দখলে নিতে পারেনি।

    এ বিষয়ে বিএভি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ডেনিম রপ্তানি খাতে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশ বরাবরের মতো অত্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে।

    দেশের ডেনিম খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি বাংলানিউজকে বলেন, বর্তমানে পুরো ইউরোপ জুড়েই ডেনিমের রপ্তানি কিছুটা কম রয়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সামগ্রিক ডেনিম আমদানির একটি বড় অংশ, প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি নিজেদের দখলে রেখে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, সক্ষমতা ধরে রেখে যদি উচ্চমূল্যের ডেনিমের দিকে যাওয়া যায় এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বাড়ানো যায়, তবে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে। অন্যান্য দেশগুলো যখন আরও উন্নতমানের পণ্য কেনা বাড়াবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের রপ্তানিও বাড়বে।

    বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও খারাপ অবস্থার মধ্যেও গত এক-দুই মাস ধরে ডেনিম খাতের অবস্থা ভালো এবং কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি সংকট বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো অভ্যন্তরীণ ঝামেলাগুলো না বাড়লে এই খাতের অবস্থা আরও অনেক বেশি ভালো হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    আধুনিক ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপন, নতুন ডেনিম ফেব্রিক মিল গড়ে ওঠা, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামে নিয়মিত ‘ডেনিম এক্সপো’-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন এই খাতকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

    আরও পড়ুন