বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবেন, সে কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য শাহবাগ মোড় ছেড়ে ডান দিকে আজিজ সুপারমার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছেন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
শনিবার সকাল ৯টার পর ইনকিলাব মঞ্চের এক ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, “আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের শহীদ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত উপলক্ষে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ মোড় থেকে ডানদিকে আজিজ সুপারমার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে।
“ঠিক দুপুর ১২টায় পুনরায় শাহবাগ মোড়ে শহীদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। বিচার আদায়ের দাবিতে সারা দেশের জনতাকে শহীদ হাদি চত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার দুপুরে শাহবাগ অবরোধ করেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। এ সময় শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সন্ধ্যার পর ঘোষণা দেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ চালিয়ে যাবেন।
এরপর সারা রাত শাহবাগে অবস্থান নিয়ে তাদের বিক্ষোভ চলে। ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমকে হাজির করার দাবি জানানো হয় সেখান থেকে।
এ সময় ‘বাংলাদেশের আজাদি, ওসমান হাদি’; ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’; ‘বাংলাদেশের পতাকায় হাদি তোমায় দেখা যায়’; ‘ইনসাফের পতাকায় হাদি তোমায় দেখা যায়’; ‘তাকবীরের ধ্বনিতে হাদি তোমায় দেখা যায়’; ‘নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর’, ইত্যাদি স্লোগান দেন মঞ্চের কর্মীরা।
শীতের মধ্যে সারা রাত তারা শাহবাগ মোড়ে রাস্তার ওপর কাটান এবং ভোরে সেখানেই ফজরের নামাজ পড়েন।
পরে তারেক রহমানের আসার পথ করে দিতে সকাল ৯টার পর শাহবাগ মোড় ছেড়ে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।
প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হাদিকে। পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার জীবনাবসান হয়।
২০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
সে সময় বিএনপি নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে। দেড় যুগের নির্বাসন ভেঙে বৃহস্পতিবার তিনি দেশে ফেরেন। সেদিনই ঘোষণা দেওয়া হয়, শনিবার তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে হাদির কবর জিয়ারত করবেন।
দেশে ফেরার পর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতাতেও হাদির কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিল এদেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।
“আজ চব্বিশের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, ওসমান হাদিসহ, একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে বিভিন্নভাবে গুম খুনের শিকার হয়েছেন, এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ যদি শোধ করতে হয়—আসুন আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব—যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব; যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।”

































