সারাদেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সহিংস কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য আশঙ্কাজনক অশনিসংকেত বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ জাতীয় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে অবিলম্বে ক্ষমতাসীন দলকে কার্যকর ‘আত্মশুদ্ধি অভিযান’ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
রবিবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনার উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে হামলা ও ভাঙচুর, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে হামলার মতো ঘটনাগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এগুলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে চলমান দখল ও চাঁদাবাজিরই ভয়াবহ ধারাবাহিকতা।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বেপরোয়া আচরণ ও দখলবাজি জনগণের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাস টার্মিনাল, বাজার, বালুমহাল ও ক্যাবল ব্যবসাসহ নানা খাতে যেভাবে দখলদারিত্বের হাতবদল হয়েছে, তা সরকারকে বিতর্কিত করছে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সরকারি দল যদি তাদের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এখনই নিজেদের দলের ভেতরের অনিয়ম দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের শৃঙ্খলাহীনতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে টিআইবি জানায়, দলীয় পরিচয়ের কারণে অনেক সময় অপরাধীদের বিরুদ্ধে সময়মত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে পুনরায় উসকে দিচ্ছে।
দেশের স্বার্থে এবং সরকারের সার্বিক সাফল্য অক্ষুণ্ন রাখতে অনতিবিলম্বে প্রতিটি অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায় সংস্থাটি।
























