| |
  • প্রচ্ছদ
  • পর্যটন
  • পর্যটন খাতে বাংলাদেশের অপরিসীম সম্ভাবনা
  • প্রয়োজন নীতিগত সমর্থন ও পরিকল্পিত ব্র্যান্ডিং

    পর্যটন খাতে বাংলাদেশের অপরিসীম সম্ভাবনা

    Icon
    মোঃ শরীফুল ইসলাম
    প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

    মোঃ শরীফুল ইসলামঃ 

    বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, বৈচিত্র্যময় পাহাড়ে ঢাকা পার্বত্য চট্টগ্রাম আর সিলেটের চোখজুড়ানো সবুজ চা-বাগান নিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত এক অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে ধরেছে।

    দেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও ঋতুবৈচিত্র্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য অনন্য নিয়ামক। তবে বিশাল সম্ভাবনা ও আকর্ষণ থাকা সত্ত্বেও সঠিক নীতি, অবকাঠামোগত ঘাটতি ও প্রচারণার অভাবে বৈশ্বিক পর্যটন বাজারে এখনো প্রত্যাশিত জায়গা করে নিতে পারছে না বাংলাদেশ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ক্ষেত্রে ব্যাপক জোয়ার দেখা গেলেও বিদেশি পর্যটক টানতে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার বেশ অভাব রয়েছে।

    পর্যটন খাতের বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ সোয়েব-উর-রহমান বলেন, (সহযোগী অধ্যাপক, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) “আমাদের ঝুলিতে প্রচুর অনবদ্য প্রাকৃতিক উপাদান ও প্রডাক্ট আছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের কার্যকর কোনো ব্র্যান্ডিং নেই।

    বিশ্বমানের অবকাঠামো, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনির্দিষ্ট পর্যটন পরিকল্পনার অভাব আমাদের পেছনে ফেলে রাখছে।

    আন্তর্জাতিক পর্যটকরা এসে যাতে পূর্ণাঙ্গ একটি অভিজ্ঞতা পান—যেমন সংস্কৃতি, প্রকৃতি, খাবার ও নৌভ্রমণের সমন্বিত প্যাকেজ—সেই ধরনের প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টে হাত দিতে হবে।

    সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে পেশাদার জনবল তৈরি ও যথাযথ বিশ্ব বিপণন নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ জায়গা করে নিতে পারবে।”

    পর্যটন খাতের বিশেষজ্ঞ মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড) বলেন, “টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য পর্যটন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি অর্থনৈতিক খাত। পুরো বাংলাদেশকেই বৈচিত্র্যময় পর্যটন-গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার অনন্য সুযোগ রয়েছে।

    এ জন্য প্রণীত পর্যটন মহাপরিকল্পনাকে (মাস্টারপ্ল্যান) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংকিং ও বেসরকারি অর্থায়নের সংযোগ ঘটিয়ে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

    পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় জনপদের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে ‘দায়িত্বশীল ও টেকসই পর্যটন’ গড়ে তুলতে পারলেই এই সম্ভাবনা বাস্তবে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে।”

    সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটনবান্ধব সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি, ভিসা ও যোগাযোগপ্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে সঠিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলে পোশাক ও প্রবাসী আয়ের মতোই পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়াবে।

    আরও পড়ুন