পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে দলটির ঘোষিত পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানী ইসলামাবাদসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজিরবিহীন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শহরটিতে সব ধরনের জনসমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
ইসলামাবাদে প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান সড়কগুলোতে এক হাজারের বেশি শিপিং কনটেইনার বসিয়ে পথ অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাবেষ্টনী জোরদার করতে কয়েকটি স্থানে ধারালো স্পাইক এবং সেতুর ওপর বালুর বস্তা রাখা হয়েছে।
এছাড়া পেশোয়ারের সাথে ইসলামাবাদের সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ রুট বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ব্যাঘাত ঘটছে এবং শহরটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সরকারের এমন কঠোর পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক আক্রমণ’ অভিহিত করে পিটিআই অভিযোগ করেছে যে, তাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণগ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই পিটিআইয়ের কয়েক ডজন নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং ইমরান খানের তিন বোনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের হাসপাতালগুলোকে জরুরি সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
পিটিআই জানিয়েছে, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও মামলার সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই রাজপথের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এর আগেও পিটিআইয়ের একই ধরনের কর্মসূচিতে সংঘাতের ইতিহাস থাকায় পুরো পাকিস্তানে নতুন করে সংঘাত ও উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


























