তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সামাজিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমকে আধুনিক ও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য স্বাস্থ্য ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষাদান করা হয়। বাংলাদেশেও সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি কার্যকর ‘সোশ্যাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস’ কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এটি শুধু জন্মনিয়ন্ত্রণ নয়; বরং শিশুস্বাস্থ্য, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধ—সবকিছুই এর অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমিত সম্পদ—যেমন যানবাহন, জ্বালানি বা জনবল—সংকট থাকা সত্ত্বেও কাজ থেমে থাকতে পারে না। সরকারি সম্পদ জনগণের, তাই সমন্বয়ের মাধ্যমে তা কাজে লাগাতে হবে। তিনি গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে স্বাস্থ্য বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রচারণার ক্ষেত্রে অনেক জায়গায় কাজের পুনরাবৃত্তি (ওভারল্যাপিং) রয়েছে, যা সমন্বয়ের মাধ্যমে কমানো সম্ভব। তথ্য অধিদপ্তর ও ডিএফপির মাধ্যমে আধুনিক ভিডিও, রিলস ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে তা দেশব্যাপী প্রচার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে উঠান বৈঠক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের আচরণগত পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। ‘বই পড়ে অনেকেই আগ্রহ পায় না, কিন্তু ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট মানুষের মনে বেশি প্রভাব ফেলে,’—যোগ করেন তিনি।
সভায় তিনি দ্রুততম সময়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) প্রণয়নের নির্দেশনা দেন, যাতে সারা দেশে পাইলট প্রকল্প অথবা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি কিশোর-কিশোরীদের লক্ষ্য করে আচরণগত পরিবর্তনমূলক বার্তা প্রচারের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, শৈশবে যে অভ্যাস গড়ে ওঠে, তা পরবর্তী জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হয়। তাই সঠিক বয়সে সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে একটি যৌথ কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি, যেখানে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যখাতের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করে লক্ষ্যভিত্তিক বার্তা নির্ধারণ করবেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আবদুল জলিল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মাহফুজা আক্তার।
সভায় দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যকর, আধুনিক ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
























