বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাপান থেকে ফিরতে কিছুটা বিলম্ব হলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরসঙ্গীদের সবাইকে সাথে নিয়ে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন আজ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জাপান থেকে রওনা হওয়ার আগে বিমানে সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়। তবে প্রধানমন্ত্রী চাইলেই বিকল্প কোনো বিমানে দ্রুত দেশে ফিরতে পারতেন। কিন্তু তিনি তাঁর সফরসঙ্গী ও অন্যান্য যাত্রীদের ছেড়ে একাকী ফিরতে সম্মত হননি। অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিলম্বের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে বিমানের অন্যান্য যাত্রীদের কাছে গিয়ে কথা বলেন এবং তাদের আশ্বস্ত ও সাহস দেন।
একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও বিমানের যাত্রীদের খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে বিমানে থাকা শিশুরা যাতে ভয় না পায় বা কান্নাকাটি না করে, সে জন্য তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং সার্বিক বিষয়ে খেয়াল রাখেন।
পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘জাপান থেকে বিমান ছাড়ার আগে পযর্বেক্ষণের সময় সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়। এটি বড় কোনো সমস্যা ছিল না। পরে সফটওয়্যার দিয়ে দ্রুত সেটির সমাধান করা হয়।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন বলে জানান আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, ‘তিনি তাৎক্ষণিক বিমানের যাত্রীদের অভয় দেন। বিশেষ করে বাচ্চারা যেন কান্নাকাটি না করে, তারা যেন ভালোভাবে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন।’
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
সফল এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য প্রসার ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া তিনি জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।



























