বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের প্রায় সবাই নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনায় ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের অধিকাংশ সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বজন হারানো জনি নামের এক যুবকের আর্তনাদ এখন রামপাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের বাতাস ভারী করে তুলছে। স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু জানান, জনি তাকে ফোনে বলেন, ‘আমি বাদে পরিবারের সবাই একই গাড়িতে ছিল, তাদের সবার (১১জন) মৃত্যু হয়েছে। আমি রামপাল হাসপাতালে যাচ্ছি, তোমরা একটু খুমেক হাসপাতালে যাও।’ পরে তিনি (মিঠু) দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, জনির পরিবারের কাউকেই আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেখানে নয়জনের লাশ এসেছে। এদের মধ্যে তিন শিশু, তিন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, তাদের হাসপাতালে চারটি লাশ রয়েছে। গুরুতর আহত আরও ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বেলাইব্রিজ এলাকায় দ্রুতগতিতে আসা বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

































