| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • বিশ্ব অর্থনীতিতে সাইবার ঝুঁকির নতুন মাত্রা
  • ব্যাংকবহির্ভূত লেনদেন বৃদ্ধি ও এআই সাইবার থ্রেট নিয়ে আইএমএফের সতর্কতা

    বিশ্ব অর্থনীতিতে সাইবার ঝুঁকির নতুন মাত্রা

    Icon
    মো. শরীফুল ইসলাম, ব্যাংকক, থাইল্যান্ড
    প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন

    বিশ্বজুড়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং খাতের বাইরে অর্থাৎ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন (Non-Bank Financial Transactions) আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত উন্নত সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রথাগত ব্যাংকিং কাঠামোর বাইরে অপরিকল্পিত বা অনিয়ন্ত্রিত লেনদেনের বিস্তৃতি এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার বৈশ্বিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ফিউচার অব ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়।

    শনিবার (১৭ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের (কিউএসএনসিসি) ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।

    সেমিনারে অংশ নিয়ে গ্রীসের সেন্ট্রাল ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ক্রিস্টিনা পাপাকনস্টান্টিনু বলেন, এআই রিলেটেট সাইবার থ্রেট আছে; এই জন্য বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নাগরিকদের চাহিদা বুঝে এটা করতে হবে।

    আইএমএফের সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল স্টেবিলিটি রিপোর্ট’-এ (Global Financial Stability Report) বলা হয়েছে, ডিজিটালাইজেশনের যুগে যেমন লেনদেন সহজ ও দ্রুত হয়েছে, তেমনি সাইবার অপরাধীরাও এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তুলনামূলক জটিল এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আক্রমণ চালাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব লেনদেন ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (NBFI), ডিজিটাল ওয়ালেট বা অনিয়ন্ত্রিত চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে হচ্ছে, সেগুলোতে পর্যাপ্ত সাইবার নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকায় ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

    আইএমএফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রধান ঝুঁকি ও পর্যবেক্ষণসমূহ:
    ​ব্যাংকবহির্ভূত লেনদেনের ঝুঁকি: প্রথাগত ব্যাংকের বাইরে বিভিন্ন এনবিএফআই এবং ডিজিটাল ফিনটেক প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব খাতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় তদারকি না থাকায় আর্থিক জালিয়াতি ও সাইবার আক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

    ​এআই চালিত সাইবার হুমকি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্যাকাররা অত্যন্ত নিখুঁত ও জটিল সাইবার হামলা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পরিকাঠামো এবং বিশাল অঙ্কের লেনদেন সংকেত হ্যাক করা সহজ হয়ে উঠছে।
    ​উদীয়মান অর্থনীতির ওপর প্রভাব: বাংলাদেশসহ বিকাশমান ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অবকাঠামো তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় এসব দেশে সাইবার আক্রমণের প্রভাব হতে পারে মারাত্মক। একটি বড় ধরণের সাইবার বিপর্যয় পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ধস নামাতে পারে।

    ​জরুরি ভিত্তিতে আইএমএফের সুপারিশ:
    সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইএমএফ বৈশ্বিক পলিসি মেকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান পরামর্শগুলোর মধ্যে রয়েছে:
    ১. নিয়ন্ত্রণ জোরদার: ব্যাংকবহির্ভূত এবং ফিনটেক খাতের লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি ও নীতিমালা নিশ্চিত করা।
    ২. সাইবার হাইজিন ও প্রোটোকল সংস্কার: সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এআই-ভিত্তিক উন্নত সাইবার ডিফেন্স সিস্টেম চালু করা।
    ৩. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: সীমান্ত পার সাইবার অপরাধ রোধে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় বাড়ানো।

    ​বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে যদি আন্তর্জাতিক আর্থিক নিরাপত্তা প্রোটোকল উন্নত করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক আর্থিক খাত বড় ধরনের সাইবার বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

    আরও পড়ুন