| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • বেলুচিস্তানে ভারতের মদতপুষ্ট ৭১ জন সন্ত্রাসী নিহত
  • বেলুচিস্তানে ভারতের মদতপুষ্ট ৭১ জন সন্ত্রাসী নিহত

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ন

    পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে গত তিন দিনে ব্যাপক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, এসব অভিযানে ভারত ও আফগানিস্তানের ‘মদতপুষ্ট’ ৭১ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।

    অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৯৬ ঘণ্টার এসব অভিযানের তথ্য দিয়েছে। সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে পাকিস্তানের এই দাবির বিষয়ে ভারত ও আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    অন্যদিকে আফগানিস্তানও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছে। দেশটির দাবি, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে প্রবেশ করার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।

    ওই অভিযানে ২৮ জন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগানিস্তান। তবে আফগানিস্তানের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান একে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে মন্তব্য করেছে।

    পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নুরিস্তান বা আফগানিস্তানের অন্য কোনো এলাকায় অভ্যন্তরীণ সংঘাতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে ইসলামাবাদ। সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগও ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে পাকিস্তান।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে অভিযোগ করে আসছে ইসলামাবাদ। তবে ভারত ও আফগানিস্তান বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

    পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে। টিটিপি বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।

    ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে টিটিপি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না।

    যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর এবং তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এসব হামলার বড় অংশের জন্য টিটিপিকে দায়ী করে আসছে পাকিস্তান।

    চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন ছিলেন পুলিশ সদস্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাটি ছিল পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো বড় হামলাগুলোর একটি।

    এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পর দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, এসব স্থাপনা ড্রোন উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

    ইসলামাবাদ এসব হামলাকে ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, পরিমিত ও আনুপাতিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পাকিস্তানের দাবি, হামলাগুলো শুধু শনাক্ত করা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ ছিল এবং এসব স্থাপনার সঙ্গে পাকিস্তানে হামলার চেষ্টার সরাসরি যোগসূত্র ছিল।

    তবে পাকিস্তানের বিমান হামলার বিষয়ে আফগানিস্তান ভিন্ন দাবি করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কাবুল এসব হামলায় বেসামরিক লোকজন হতাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

    এ অবস্থায় আফগান তালেবান সরকারের প্রতি পাকিস্তান অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে বৈরী তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

    দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে সীমান্তপারের হামলা, পাল্টা সামরিক অভিযান এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক বেলুচিস্তান অভিযান ও আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাগুলো সেই উত্তেজনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

    তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, রয়টার্স

    আরও পড়ুন