| |
  • প্রচ্ছদ
  • ফিচার
  • এশিয়ার বৃহৎ মিঠাপানির হাওর হাকালুকি
  • এশিয়ার বৃহৎ মিঠাপানির হাওর হাকালুকি

    Icon
    ফিচার ডেস্ক
    প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

    এশিয়ার অন্যতম এবং বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মিঠাপানির হাওর হাকালুকি। হাকালুকি হাওরে একসময় প্রচুর জলাবন ছিল, যা বন বিভাগের আওতায় ছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বন বিভাগের আওতা থেকে হাওরের ভূমির দায়িত্ব ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে চলে যায়।

    এরপর প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবের পাশাপাশি মানুষের বেপরোয়া জলাবন নিধন এবং বন কেটে জমি তৈরির কারণে আস্তে আস্তে হাওরের জলজ বনগুলো বিলুপ্ত হতে থাকে।

    শুধু উদ্ভিদই নয়, হাওর তীরের মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডেও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ে। ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া বা ইসিএ) এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। হাকালুকি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জলাবন পুনরুদ্ধারে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় হাকালুকির উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ৩৯ হাজার ৫০০ জলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

    প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে হাওরে মাছ ও পরিযায়ী পাখিদের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে উঠবে। এ ছাড়া এসব জলাবন প্রকৃতিপ্রেমীদেরও আকর্ষণ করবে এবং পর্যটনের পরিধি বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন সাধিত হবে।

    সম্প্রতি হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন এলাকায় জলজ উদ্ভিদের চারা লাগানো হয়েছে।

    সেগুলো, কুলাউড়া উপজেলার নাগুয়া-লরিবাই বিলের কান্দায় পাঁচ হাজার, জুড়ী উপজেলার চাতলা, নামা তরুল, নাগুয়া-ধলিয়া বিলের কান্দায় ১৪ হাজার ৫শ বড়লেখা উপজেলার জল্লা ও মালাম বিলের কান্দায় ১৫ হাজার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিরালী খালের পাড়ে পাঁচ হাজার হিজল, করচ ও বরুন গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এসব চারা রক্ষায় আটজন পাহারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গরু-মহিষের ক্ষতি থেকে রক্ষায় বাঁশের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে।

    সরেজমিন হাকালুকি হাওরে দেখা যায়, নতুন রোপিত জলজ গাছের চারা কুড়ি মেলেছে। আসন্ন বর্ষার আগেই চারাগুলো ডালপালা মেলতে শুরু করবে।

    বর্ষার সময়ে পানিতে তলিয়ে গেলেও চারাগুলো মরবে না বলে জানান চারা লাগানোর কাজে নিয়োজিতরা। প্রকল্প কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, এসব জলজ বন সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১১ জন পাহারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    হাকালুকি হাওরে জলজ বনের পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন বিল ও খালের কান্দায় ৩৯ হাজার ৫শ হিজল, করচ ও বরুন গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হাওর বর্ষায় মাছ এবং শীতকালে পরিযায়ী পাখির জন্য অভয়াশ্রম হবে। হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও ফিরে আসবে বলেও মন্তব্য করেন প্রকল্প কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান।

    তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, হাকালুকি হাওর মূলত মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্থিত একটি বিশাল মিঠাপানির জলাভূমি, যার আয়তন প্রায় ১৮১ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার। প্রায় ১শ’টি বিল নিয়ে গঠিত এই হাওর বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয় এবং শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের অভয়ারণ্যে রূপ নেয়।

    ২০০০ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর হাকালুকি হাওরের প্রথম উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ২০০৩ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিডব্লিউবিএমপি প্রকল্প চালু হওয়ার সময় হাওরে মাত্র দুটি জায়গায় অল্প পরিমাণ হিজল ও করচের ছোট গাছ ছিল। পরবর্তী সময়ে সিডব্লিউবিএমপি প্রকল্পের মাধ্যমে সিএনআরএস হাকালুকি হাওরের অনেক কান্দাতে হিজল ও করচের চারা রোপণ করে।

    সেই সঙ্গে অনেক কান্দাকে সংরক্ষণের আওতায় আনা হয়। তারই প্রেক্ষিতে হাকালুকি হাওরের জল্লা বিল, মালাম বিল, সাতবিলা বিল, চৌলা বিল, পিংলা বিল, টোলার বিল, নাগুয়া-লরিবাই বিল, কাংলি বিল, শিংজুড়ি বিল, হাওয়া-বর্না বিল এবং কাটা গাং ও বিরালী খালের পাড়ে জলজ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে উঠতে থাকা হিজল, করচ ও বরুন গাছের জলাবনের আয়তন আনুমানিক ১৬০ হেক্টর।

    আরও পড়ুন