জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা ফের শুরু হয়েছে রাত ১২টা ৪১ মিনিটে। সব কেন্দ্রের ভোট ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি গণনা শেষে একসঙ্গে জকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (কেন্দ্রীয় মিলনায়তন) ভোট গণনা শুরু হয়। তবে রাত ৮টার দিকে দুটি মেশিনে ‘ম্যাচিং ত্রুটি’ দেখা দেওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সব প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য প্রার্থী, জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, প্রক্টর এবং ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা কাকলী বলেন, সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে রাত ১০টায় উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভোট গণনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথমে যে কেন্দ্রে ৩০০টি ব্যালট রয়েছে, সেখানে মোরলেস ব্যালট ম্যানুয়ালি গণনা করা হবে। এরপর একই ব্যালট ডিজিটালি দুইটি মেশিনে গণনা করা হবে। দুই মেশিনের মধ্যে যে মেশিনের ফলাফল ম্যানুয়াল ফলাফলের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিলবে, সেই মেশিন দিয়েই বাকি ভোট গণনা করা হবে। এভাবে সব কেন্দ্রের ভোট ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি গণনা শেষে একসঙ্গে জকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সকাল থেকে এখানে অবস্থান করছি। ভোট গণনা শুরু হবে ২০ মিনিট পর, তখন তারিখ ৭ জানুয়ারি পড়বে।
এদিকে সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন প্যানেলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। পরে সন্ধ্যায় শিক্ষার্থী ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভোট গণনার মেশিন পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষা শেষে ভোট গণনা শুরু করা হয়।
সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান জানান, জকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং হল সংসদে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৫ সালে কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর এটিই প্রথম ছাত্র সংসদ নির্বাচন।
এই নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনসমর্থিত প্যানেল অংশ নিয়েছে।

































