প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শুধু শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং তারা কী শিখছে এবং কতটুকু আয়ত্ত করতে পারছে—তা নিয়মিত যাচাই করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় লার্নিং টয়েসের (Learning Toys) মাধ্যমে আনন্দদায়ক ও খেলাধুলার ছলে শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের বিভিন্ন শিখনদক্ষতা ও মেধা যাচাই করেন।

আজ পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার মাহুতুলি রেনেসাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রসন্ন পোদ্দার লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে লার্নিং টয়েস (শিখন উপকরণ) বিতরণ করেন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শিখনদক্ষতা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তরের মৌলিক শিখনদক্ষতা (Foundational Literacy and Numeracy:FLN) যাচাই করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দেখেন, লার্নিং টয়েস ব্যবহার করে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে বিভিন্ন ধারণা ও বিষয় সহজে বুঝতে পারছে। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনো কোনো বিষয় বোঝাতে সময় লাগলেও খেলনা ও হাতে-কলমে শেখার উপকরণের মাধ্যমে শিশুরা তুলনামূলক সহজে তা অনুধাবন করতে পারছে। এ ধরনের উপকরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার আগ্রহ, উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামো বা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়,প্রতিটি শিশু শ্রেণিকক্ষে কী শিখছে, নির্ধারিত শিখনফল অর্জন করতে পারছে কি না এবং শিক্ষকরা কতটা কার্যকরভাবে পাঠদান করছেন, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।
এ জন্য বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, ওয়াশরুম, শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান পদ্ধতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখনদক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গণিত ও ইংরেজিসহ মৌলিক শিখনদক্ষতার ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল যাচাই এবং শিশুদের উপযোগী আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লার্নিং টয়েসসহ কার্যকর শিখন পদ্ধতিগুলো কীভাবে আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা বিবেচনা করা হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
এসব পদে দ্রুত নিয়োগের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে।

তিনি আরও জানান, দায়িত্ব পালনে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়োগবিধি ও পিএসসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিশুদের মাঝে পড়াশোনার ভীতি দূর করে খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো মৌলিক বিষয়গুলোর শিখনঘাটতি আনন্দঘন ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমেই দূর করা যেতে পারে।

বিদ্যালয় পরিদর্শনের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামীতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে লার্নিং টয়েসসহ অন্যান্য আধুনিক ও কার্যকর শিখন পদ্ধতিগুলো আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
























