রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় ও সঠিক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা হলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন।
১. বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি ও রুট পুনর্বিন্যাস ঢাকার গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে বাস রুট র্যাশনালাইজেশন বা ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর বিদ্যমান অগোছালো বাস রুটগুলোকে কমিয়ে এনে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে একই রুটে বিভিন্ন কোম্পানির বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ হয়।
২. আধুনিক কাউন্টার ও ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা যাত্রীদের স্বস্তি ও শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্ধারিত বাস স্টপেজ এবং কাউন্টারভিত্তিক টিকিট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে যত্রতত্র যাত্রী তোলার প্রবণতা রোধ করা এবং ডিজিটাল বা ই-টিকেটিং ব্যবস্থার আওতায় গণপরিবহন পরিচালনা করা সহজ হবে।
৩. জিপিএস ট্র্যাকিং ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং রুট লঙ্ঘন রোধ করতে জিপিএস ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব সহজেই নির্ধারিত নিয়ম ও সময়সূচি মেনে বাস চলাচল করছে কি না, তা মনিটরিং করতে পারবে।
৪. চক্রাকার বাস সার্ভিস ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারমেট্রোরেলের সঙ্গে ফিডার সার্ভিস হিসেবে সংযোগ বাড়াতে এবং প্রধান সড়কে ছোট ও অননুমোদিত যানবাহনের চাপ কমাতে বিভিন্ন এলাকায় চক্রাকার (সার্কুলার) বাস রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নগরবাসীর স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনস্বার্থ এবং সড়ক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট ও গণপরিবহনের নৈরাজ্য অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে।




























