| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • ফ্রান্স বিক্ষোভ, ভারতের আন্দোলন ‘একসূত্রে গাঁথা’
  • ফ্রান্স বিক্ষোভ, ভারতের আন্দোলন ‘একসূত্রে গাঁথা’

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
    1079161985

    ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের আন্দোলনের মধ্যে সাংগঠনিক যোগসূত্র থাকার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নয়টি দেশের ১০১টি সংগঠনের নাম তুলে ধরে এগুলোকে কথিত ‘লাল-সবুজ বিক্ষোভ নেটওয়ার্কের’ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এসব সংগঠন সরাসরি বিক্ষোভের অর্থায়ন, আয়োজন বা নিয়ন্ত্রণ করেছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

    ফক্স নিউজের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক আসরা নোমানির করা ‘গ্লোবাল ক্যাওস ইনকরপোরেটেড গ্রোজ টু ১০১ গ্রুপস’ শিরোনামের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের সমন্বয়, আয়োজন ও প্রচারে একাধিক সংগঠন ভূমিকা রাখছে।

    প্রতিবেদনে ‘লাল-সবুজ’ শব্দবন্ধ দিয়ে ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কথিত সহযোগিতার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। প্রতিবেদনে ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিসের (আইএপি) নামও এসেছে।

    ফক্স নিউজের দাবি, সংগঠনটি ফ্রান্স ও ভারতের বিক্ষোভের বার্তার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখছে। ম্যানহাটনভিত্তিক পিপলস ফোরামের সঙ্গেও সংগঠনটির অংশীদারত্ব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদবিরোধী সংগঠন প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের (পিআই) কর্মকাণ্ডও অনুসন্ধানে আলোচনায় এসেছে। গত ১৬ অক্টোবর সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ব্রিফিংয়ে ফ্রান্স, স্পেন, ভারত ও আলবেনিয়ার বিক্ষোভ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়, নতুন বিদ্রোহগুলো কি এমন সংগঠিত শক্তি অর্জন করতে পারবে, যা বিদ্যমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম? একই সঙ্গে সংগঠনটি জানায়, এসব আন্দোলনকে সমর্থন এবং তাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে তারা কাজ করছে।

    ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপের অস্থিরতা নিয়ে প্রচার চালাতে কমিউনিস্টপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ব্রেকথ্রু নিউজ, কোডপিঙ্ক ও পার্টি ফর সোশ্যালিজম অ্যান্ড লিবারেশন-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের দাবি, সাংহাইয়ে বসবাসরত মার্কিন বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নেভিল রয় সিংহাম এসব সংগঠনকে অর্থায়ন ও সহায়তা দিয়ে থাকেন।

    গত ১৪ অক্টোবর ব্রেকথ্রু নিউজে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সিংহামের স্ত্রী এবং কোডপিঙ্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা জোডি ইভান্স বলেন, তিনি চান মানুষ ফ্রান্স, স্পেন ও ভারতের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করুক-তারা কোথায় এবং কেন রাস্তায় নামছে না।

    এদিকে, ডিসইনফোল্যাব নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টের পোস্টে প্যারিসভিত্তিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংবাদিক ও আইএপির সচিব জয় ব্যানার্জিকে নিয়েও দাবি করা হয়েছে। পোস্টটিতে বলা হয়, তিনি আগে ফরাসি শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটির প্রতিনিধি ছিলেন এবং ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

    ভারতে ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভের খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনায় আন্দোলনকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তাদের অভিযোগ, এই সংশোধনের ফলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    ফক্স নিউজের অনুসন্ধানে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ, সহযোগিতা ও অর্থায়নের বিষয়ে যেসব দাবি করা হয়েছে, সেগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একাধিক দেশে একই সময়ে বিক্ষোভ হওয়া কিংবা সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ থাকাই যে সেগুলোকে একটি কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হওয়ার প্রমাণ, তা নয়। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ভূমিকা, অর্থায়নের ধরন এবং বিক্ষোভের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আরও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

    তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ

    আরও পড়ুন