ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অনন্য এক নাম নানা পাটেকর। কেবল তাঁর চড়া মেজাজের ডায়লগ ডেলিভারিই নয়, বরং গভীর চরিত্রাভিনেতা হিসেবে রূপালী পর্দায় নিজের ছাপ রেখে গেছেন তিনি।
থ্রিলার, ড্রামা, বায়োপিক কিংবা কমেডি—সব ধরণের জ্যঁরাতেই নিজের সাবলীল অভিনয়ে কোটি কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেতা। নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রশংসিত ও সেরা ১০টি সিনেমার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. নটসম्राट (২০১৬): মারাঠি ভাষার এই কালজয়ী ছবিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত থিয়েটার অভিনেতার মানসিক যন্ত্রণা ও জীবনসংগ্রাম ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হয়।
২. পরিিন্দা (১৯৮৯): ক্রাইম ট্র্যাশ ঘরানার এই ছবিতে গ্যাংস্টার ‘আন্না’ চরিত্রে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন নানা। এ ছবির ঝুলিতেই আসে তাঁর প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
৩. ক্রান্তিবীর (১৯৯৪): দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ‘প্রতাপ তিলক’ চরিত্রে তাঁর সেই বিস্ফোরক ডায়লগ এখনও ভক্তদের মুখে মুখে ফেরে। ছবির জন্য পান সেরা প্রধান অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার।
৪. আব তক ছপ্পন (২০০৪): এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট পুলিশ অফিসার ‘সাধু আগাশে’ চরিত্রে তাঁর শান্ত অথচ অত্যন্ত কঠোর অভিনয় সিনেমাটিকে বিশেষ উচ্চতা দিয়েছিল।
৫. প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক (১৯৯১): অভিনয়ের পাশাপাশি এই ছবিটি পরিচালনাও করেছিলেন নানা পাটেকর। ভারতীয় সেনার অফিসার হিসেবে তাঁর সামরিক শৃঙ্খলাভিত্তিক চরিত্রটি দারুণ প্রশংসিত হয়।
৬. হে মলকসা / ডাঃ প্রকাশ বাবা আমটে (২০১৪): আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে জীবন উৎসর্গকারী চিকিৎসক প্রকাশ আমটের বায়োপিকে নাম ভূমিকায় তাঁর অসাধারণ অভিনয় ভক্তদের আবেগপ্লুত করেছিল।
৭. অগ্নিসাক্ষী (১৯৯৬): একজন মানসিক অসুস্থ ও সন্দেহপ্রবণ স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করে নেতিবাচক ও জটিল মনস্তাত্ত্বিক রূপ রূপালী পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন নানা।
৮. অপহরণ (২০০৫): প্রকাশ ঝার এই রাজনৈতিক ক্রাইম ড্রামায় কুখ্যাত ও ধূর্ত রাজনীতিবিদ ‘তবরেজ আলম’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পান ফিল্মফেয়ার সেরা ভিলেন পুরস্কার।
৯. ওয়েলকাম (২০০৭): সিরিয়াস চরিত্রে অনবদ্য হলেও কমেডিতে তিনি কতটা সিদ্ধহস্ত, তা প্রমাণ করেন ‘উদে শেট্টি’ চরিত্রে। অনিল কাপুরের সঙ্গে তাঁর রসায়ন ছিল ছবির মূল আকর্ষণ।
১০. রাজনীতি (২০১০): মহাভারতের কৃষ্ণ চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত ‘ব্রিজ গোপাল’ চরিত্রে তাঁর ধীরস্থির ও চতুর রাজনৈতিক চাল চালার অভিনয় সিনেমাটিকে গতি দিয়েছিল।


























