| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • চরম রাজনৈতিক সংকটে নেতানিয়াহু, হারাচ্ছেন ক্ষমতা
  • নির্বাচনী জরিপ

    চরম রাজনৈতিক সংকটে নেতানিয়াহু, হারাচ্ছেন ক্ষমতা

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

    আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবল রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপ ও জনমত সমীক্ষায় বিরোধীদের স্পষ্ট এগিয়ে থাকার আভাস মেলায় তাঁর ক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    জনমত জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি দল ‘ইশার’ ও বিরোধী জোটের দিকেই অধিকাংশ ভোটারের ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ৭ অক্টোবরের হামলা রোধে ব্যর্থতা, অব্যাহত গাজা যুদ্ধ এবং দেশজুড়ে দুর্নীতি ও সরকারবিরোধী ক্ষোভের কারণে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাঁর জোট সঙ্গীরা বেশ ব্যাকফুটে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইউওনের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ সময় পর কোনো সরকার আগাম পতন ছাড়াই পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার নজির গড়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আকস্মিক হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়।

    এরপর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সংঘাতের মধ্যেও সরকার টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হন নেতানিয়াহু। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের ২৫তম নেসেট বা পার্লামেন্ট গত ১৭ জুলাই নির্ধারিত চার বছরের মেয়াদ শেষে বিলুপ্ত হয়।

    ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম দেশটির কোনো পার্লামেন্ট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পূর্ণ মেয়াদ শেষ করল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারও এর আগে পূর্ণ মেয়াদে সরকার পরিচালনার নজির রেখেছিলেন বলে ইউওনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নেতানিয়াহু আবারও প্রধানমন্ত্রী হয়ে রেকর্ড সপ্তম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, নাকি এবার ক্ষমতা ছাড়তে হবে-এ প্রশ্ন এখন ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় আলোচনার বিষয়। ইউওনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন গাডি আইজেনকোট। মাত্র এক বছর আগে গঠিত মধ্যপন্থি জায়নবাদী দল ‘ইয়াশার’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

    অনলাইন পূর্বাভাসের বাজার পলিমার্কেটের হিসাবে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় আইজেনকোট এগিয়ে রয়েছেন। ৭ অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ের হিসাব অনুযায়ী, তার সম্ভাবনা প্রায় ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সম্ভাবনা ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশের মধ্যে।

    তবে এই পরিসংখ্যান জনমত জরিপের ফল নয়; এটি পূর্বাভাসের বাজারে অংশগ্রহণকারীদের ধারণার প্রতিফলন। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি বদলালে এই হিসাবও পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে আইজেনকোট এগিয়ে থাকলেও নির্বাচনে কে জয়ী হবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    ইসরায়েলের নির্বাচনে ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; তারা পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচনের জন্য দলকে ভোট দেন। এরপর ১২০ সদস্যের নেসেটে অন্তত ৬১ সদস্যের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়। তাই নির্বাচনে কোনো দল বা জোট এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা নির্ভর করবে সরকার গঠনের সমীকরণের ওপর।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বর্তমান পার্লামেন্টারি সমীকরণে নেতানিয়াহু সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১টি আসন) অর্জনে ব্যর্থ হতে পারেন। এর ফলে ইসরায়েলের রাজনীতিতে তিন দশকের রাজত্ব শেষে নেতানিয়াহু যুগের অবসানের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে।

    তথ্যসূত্র: ইউওন

    আরও পড়ুন