বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক পোশাক আমদানি কমলেও, এশিয়ার প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। অন্যান্য দেশের তুলনায় রপ্তানি হ্রাসের হার কম রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে রেখেছে দেশের তৈরি পোশাক খাত।
চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-আগস্ট আট মাসে বাংলাদেশের একক প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক আমদানি কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হ্রাসের হার কম।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (OTEXA)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিযোগীদের শ্লথগতি: সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ববাজারের মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলো থেকে পোশাক আমদানি কমেছে। তবে চীনের মতো বড় রপ্তানিকারকদের রপ্তানি যেখানে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের পতনের হার ছিল অনেকটাই কম।
সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি: প্রতিযোগী দেশগুলোকে পেছনে ফেলে গত জুলাই-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬১ কোটি (১.৬১ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৪২ শতাংশের বেশি।
বাজার অংশীদারিত্ব: যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির বাজার হিস্যার দিক থেকে ভিয়েতনাম শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও দ্বিতীয় অবস্থানে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে বাংলাদেশ।
রপ্তানি টিকিয়ে রাখার মূল কারণসমূহ
১. উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরি: প্রচলিত সাশ্রয়ী পোশাকের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমূল্যের ফ্যাশনেবল পোশাক রপ্তানিতে মনোযোগ দিয়েছে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।
২. চৈনিক বিনিয়োগ ও ফাইবার সুবিধা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কনীতির পরিবর্তনের সুবিধা নিতে অনেক বিদেশী ও চাইনিজ বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
৩. ক্রেতাদের আস্থা: গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিশ্বখ্যাত মার্কিন ক্রেতারা বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখছেন।
পোশাক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউএস বাজারে অন্যান্য এশীয় প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
জ্বালানি সংকট সমাধান এবং লজিস্টিক সুবিধার আরও উন্নতি করা সম্ভব হলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের এই ইতিবাচক ধারা আরও সুসংহত হবে।
























