দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন সামরিক সংঘাত নিরসনে এবার সরাসরি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় জোরালোভাবে অবতীর্ণ হয়েছে ভারত। সংঘাত বন্ধে সংলাপ ও কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা এতদিন বলে আসলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও যোগাযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক বিবৃতিতে জানান, কেবল শান্তির আহ্বান জানিয়েই ক্ষান্ত নয়, বরং মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টির জন্য ভারত এখন আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে জাহাজের নিরাপত্তা বজায় রাখা, শস্য ও জ্বালানি রপ্তানি চালু রাখা এবং একে অপরের ওপর আক্রমণ না করার মতো সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে তুরস্ক, মিশর ও আমেরিকার পাশাপাশি ভারতের থেকেও প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে ভারতের প্রস্তাবিত রূপরেখাটিকেই সবচেয়ে বিস্তৃত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে কিয়েভ।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সাথে দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পশ্চিমা বিশ্বের সাথে ঘনিষ্ঠতা—উভয় ভারসাম্য বজায় রেখে চলা ভারতের পক্ষে সম্ভব বলেই সংঘাত নিরসনে একটি নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসছে দেশটি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শান্তিপূর্ণ সমাধানের বার্তার পর ভারতের এই কূটনৈকিক উদ্যোগ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রার যোগ করেছে।




























