যুক্তরাজ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford)-এর নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের কারণে সেখান থেকে নিজেদের সব বি-১ (B-1) বোমারু বিমান প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগন ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বিমানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিজ নিজ স্থায়ী ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কী ঘটেছিল ঘাঁটিতে? ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটিটির কাছে বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক যানবাহন এবং নাশকতার পরিকল্পনার আশঙ্কায় ব্রিটিশ পুলিশ অভিযান চালায়।
যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা বা বিস্ফোরণ ঘটানোর ষড়যন্ত্রের সন্দেহে লন্ডনের পাঁচ অধিবাসীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কোনো শক্তিশালী বিদেশি শক্তির সরাসরি ইন্ধন বা যোগসূত্র থাকতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জামিনে অসন্তোষ:যুক্তরাজ্যের পুলিশ সন্দেহভাজনদের পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দিলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপে বিস্ময় ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, অভিযুক্তরা বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিল এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারে থাকলে কোনো অবস্থাতেই জামিন পেত না। কৌশলগত প্রভাব:আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রবর্তী কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে।
বিশেষ করে দূরপাল্লার বোমারু বিমান চালনার ক্ষেত্রে এর ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ও বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো নানা সামরিক তৎপরতায় বিমানঘাঁটিটি ব্যবহূত হচ্ছিল।
সেখান থেকে মার্কিন রণতরি ও বোমারু বহর প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ওয়াশিংটন-লন্ডন যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




























