| |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • ২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি
  • জিএমসহ চারজন বরখাস্ত

    ২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন

    মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামসহ চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অস্বাভাবিক এ বিলের ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে মহিতুল ইসলামকে বরখাস্তের পর মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জিএম হিসেবে মহম্মদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এস এম শাহিন আহসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বরখাস্ত হওয়া অন্য তিনজন হলেন-মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের বিলিং সুপারভাইজার সীমা রানী রায়, বিলিং সহকারী সোমা রানী ঘোষ এবং মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মোহাম্মদ তোরাপ আলী। মহিতুল ইসলামকে যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এবং অপর তিনজনকে মাগুরা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

    মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের আবাসিক গ্রাহক আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করা হয়। বিলের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে তাঁর বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। অথচ এর বিপরীতে বিল করা হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

    বিলটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে যাচাই করে অস্বাভাবিক বিলটি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত হিসাবে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আলেয়া খাতুনের বিল দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। ওই বিলই পরিশোধ করেন তিনি।

    মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। প্রাথমিক তদন্তে মিটার পরিবর্তনের সময় যান্ত্রিক অসাবধানতার কারণে মিটারের সিল নম্বর ভুল করে ডিমান্ড চার্জের ঘরে বসিয়ে দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এর ফলেই অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল তৈরি হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুনকে ফোন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

    ফোনালাপে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় তৈরি হওয়া মানসিক বিড়ম্বনা ও উদ্বেগের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও গ্রাহককে অনুরোধ করেন তিনি।

    ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আলেয়া খাতুন বলেন, মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সময়ে অনেক ফোন আসায় তিনি ফোনকারী মন্ত্রী নাকি প্রতিমন্ত্রী-এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আরও পড়ুন