‘একটি হৃদস্পন্দনও উপেক্ষা করবেন না’— এই মূল বার্তা নিয়ে আজ ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। হৃদরোগ ও রক্তনালির নানা ব্যাধি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছরের মতো এবারও নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
বিশ্ব হার্ট ফেডারেশনের তথ্য মতে, হৃদরোগের অনেক লক্ষণই শুরুতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না। এমনকি উচ্চ রক্তচাপের মতো মারাত্মক ঝুঁকিও কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। তাই অসুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ মানুষ হৃদরোগ ও রক্তনালি সংক্রান্ত ব্যাধিতে প্রাণ হারিয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ মৃত্যুর সঙ্গেই সরাসরি জড়িত ছিল হৃদরোগ ও স্ট্রোক।
হৃদরোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে চিকিৎসকরা দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু জরুরি পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন:
খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, ডাল ও বাদাম রাখা।
শারীরিক সক্রিয়তা: প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া।
বর্জনীয় অভ্যাস: ধুমপান, তামাকজাত পণ্য ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।
নিয়মিত পরীক্ষা: শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তের শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা।
মানসিক সুস্থতা: পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী বুকব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা কিংবা ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
নিয়মিত সচেতনতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনচর্চায় হৃদরোগের অধিকাংশ ঝুঁকিই প্রতিরোধ করা সম্ভব।




























