রাজধানীতে তৈরি হয়েছে তীব্র কবরস্থান সংকট। দিন দিন সাধারণ মানুষের জন্য প্রিয়জনের মরদেহের শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। এই সংকট সামাল দিতে এবং নতুন কবরের জায়গা খালি রাখতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণের ফি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা বর্তমানে সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঢাকায় জনসংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও সে অনুযায়ী কবরস্থানের আয়তন বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে পুরনো কবরস্থানেই পুনরায় নতুন মরদেহ দাফনের জায়গা বের করতে হচ্ছে। স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণের প্রবণতা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক দাফনপ্রক্রিয়া সচল রাখতেই প্রশাসন সংরক্ষণ ফি এভাবে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির আওতাধীন কবরস্থানগুলোতে ১০ থেকে ২৫ বছরের জন্য স্থান স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের খরচ বর্তমানে কয়েক লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কোনো কোনো নির্ধারিত অভিজাত এলাকায় বা দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ ক্যাটাগরিতে ২৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণের মোট খরচ গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকায়।
এই চরম মূল্যবৃদ্ধির কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে এখন প্রিয়জনের কবর দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা তো দূরের কথা, সাধারণ দাফনের খরচ বহন করাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কেবল ফি বাড়িয়ে কবরস্থান সংকট দূর করা সম্ভব নয়। সমাধান হিসেবে ঢাকার আশেপাশে নতুন ও সুবিশাল গোরস্থান নির্মাণ করা, বহুতল বা আধুনিক কবর ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা এবং সাধারণ মানুষের দাফন প্রক্রিয়াকে সহজলভ্য করতে টেকসই নীতিমালা গ্রহণ করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
























