| |
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • বদলি ঠেকাতে ডেপুটি স্পিকারের জাল ডিও লেটার
  • এসি-ল্যান্ডের নামে মামলা

    বদলি ঠেকাতে ডেপুটি স্পিকারের জাল ডিও লেটার

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ন

    জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার) ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে জাল ডিও লেটার তৈরি করে বদলি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগে এক সহকারী কমিশনারের (এসি-ল্যান্ড) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

    মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার এসি-ল্যান্ড শাওন মজুমদার সুমনকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে এতে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ এর পরিচালক মো. মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৪ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবের মাধ্যমে বাদী জানতে পারেন— আসামি শাওন মজুমদার সুমন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নামে একটি জাল ডিও পত্র তৈরি করেছেন।

    এতে ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও সরকারি লেটারহেড জালিয়াতি করে ব্যবহার করা হয়। মূলত বদলি ঠেকাতে ও পছন্দমতো জায়গায় পদায়নের জন্য এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়।

    ওই ভুয়া পত্রের মাধ্যমে এসি-ল্যান্ড শাওনকে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়।

    পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, কথিত ডিও পত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ইস্যু করা হয়নি। পত্রে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষা, বিন্যাস ও অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এটি প্রাথমিকভাবেই জাল বলে প্রমাণিত হয়।

    এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, এই জালিয়াতির মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকারের সাংবিধানিক পদমর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলি প্রক্রিয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা নষ্টের অপচেষ্টা করা হয়েছে।

    এ ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ বাদীর। প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ই-মেইল, প্রিন্টিং উৎস এবং আর্থিক ও যোগাযোগের তথ্য তদন্তের পাশাপাশি ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫ (জালিয়াতি), ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪২০ এবং ১২০-বি ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের সঙ্গে কথিত জাল ডিও পত্র ও প্রকৃত প্যাডের নমুনা সংযুক্ত করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন