নারীর ক্ষমতায়ন, উপকূলে নারীর অধিকার, নারীর দক্ষতা উন্নয়নের কথা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে আফ্রিকার তানজানিয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশি দুই নারী।
কানাডার কোডি ইনস্টিটিউটের আমন্ত্রণে তানজেনিয়ার দারএস সালামে ২৩ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবির এনগেজ প্রকল্পের সমাপনী সভা এবং গ্লোবাল গেদারিং অন ওমেন লিডারশিপ অ্যান্ড এক্টিভ সিটিজেনশিপ অনুষ্ঠানে যোগদান করতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বরগুনার পাথরঘাটার দুই নারী। তারা হলেন, পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের রুবি আফরোজ ও চরদুয়ানী ইউনিয়নের সুজয়া রানী।
জানা যায়, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিকল্প উপায়ে জীবিকায়নের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে আসছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবির এনগেজ প্রকল্প।
এই প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রায় ২৫০ জন নারী উপকারভোগী রয়েছেন।
তানজানিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ ভারত, ইথিউপিয়া, হাইতি ও তানজানিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সম্মেলনে প্রকল্পের অর্জন উপস্থাপনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে এবং বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্য বিনিময় করবেন। এর মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটার রুবি আফরোজ ও সুজয়া রানীও কথা বলবেন। কথা বলবেন তাদের উঠে আসার গল্প।
রুবি আফরোজ ও সুজয়া রানী গ্রামীণ উপকূলীয় এলাকার সাধারণ নারী। আগে তারা গৃহিণী হিসেবে জীবনযাপন করতেন। এনগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ, নিয়মিত সহায়তা এবং স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ পাওয়ার পর তারা গৃহিণীর পাশাপাশি বিভিন্ন আয়বর্ধক কার্যক্রমে যুক্ত হন।
এতে তাদের পারিবারিক আয় ও স্বনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বর্তমানে তারা স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং অন্য নারীদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছেন। এলাকার অনেক নারীর কাছে তারা এখন অনুপ্রেরণা।
কথা হয় রুবি আফরোজ ও সুজয়া রানীর সাথে। তারা বলেন, আমরা এক সময় ঘরের বাইরে বের হইনি।
মানুষের সঙ্গে কথাও বলতে পারতাম না। এছাড়াও স্বামীর উপার্জনে সংসার জীবন খুবই কষ্টে অতিবাহিত হতো। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গৃহিণীর কাজের পাশাপাশি আয়বর্ধক কাজ শুরু করি। তাতে স্বামীর উপার্জনের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন হওয়াতে আমাদের সংসারের উন্নতি হয়েছে।
রুবি আফরোজ বলেন, এখন আমি গরু পালন করি। দুধ বিক্রি করি পাশাপাশি গোবর দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করি ও বিক্রি করি। এছাড়াও পারিবারিক কৃষি কাজও করি। এতে আমাদের এখন কষ্ট তো নেই নিজের খরচ এখন স্বামীর কাছে চাইতে হয় না।
সুজয়া বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারি, কোথাও নারী নির্যাতন কিংবা বাল্যবিবাহ হলে তার প্রতিবাদ করি। নারীদের ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করে থাকি।
প্রোগ্রাম অফিসার অভিজিৎ মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিন নারীর ক্ষমতায়ন, কীভাবে নারীরাও আর্থিকভাবে আয়বর্ধক কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারে তার উদাহরণ রুবি আফরোজ ও সুজয়া রানী।
উপজেলা সমন্বয়কারী সুজন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বিভিন্ন সময় এনগেজ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে পাথরঘাটার প্রায় ২৫০ জন নারীকে। তাদের অবদান, নেতৃত্বের গুণাবলি ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ২৫০ জনের মধ্য থেকে দুজনকে নির্বাচন করা হয়েছে। আশা করছি আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপকূলের নারীদের অগ্রগতি সম্পর্কে উপস্থাপন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

































