| |
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ
  • বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৪০ শতাংশ

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন

    দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হচ্ছে। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় দেশের প্রধান প্রধান উন্নয়ন খাতগুলোতে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান বৈশ্বিক মহামারী এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দাতাসংস্থাগুলোর কাছ থেকে এ ধরনের ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দেশের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে। মূলধন সংকট মেটানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

    অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পাওয়া নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণ ছিল ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং অনুদান ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির ফলে আগামী সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে । তবে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে অর্থছাড়ের সময়সূচি, প্রকল্প প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর।

    মূলত যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতগুলোতে উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন তহবিল বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতেও উল্লেখযোগ্য অর্থায়নের আশ্বাস পাওয়া গেছে।

    বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ধরনের অর্থায়ন বাস্তবায়ন হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে।

    বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সংস্থাসমূহ বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে আস্থা অব্যাহত রেখেছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিশ্চিত করা গেলে এ প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত ছাড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের বিদেশি সহায়তা ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ছাড় হওয়া সহায়তার মধ্যে প্রকল্প সহায়তা ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান ছিল ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে।

    এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

    ইআরডির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণের আসল হিসেবে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ বাবদ ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একই সময়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি হচ্ছে উন্নয়ন সহযোগীদের ভবিষ্যৎ অর্থায়নের অঙ্গীকার, আর অর্থছাড় হলো প্রকল্প বা কর্মসূচির বিপরীতে বাস্তবে পাওয়া অর্থ। তাই নতুন প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড় এবং উন্নয়ন প্রকল্পে তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

    ইআরডি-র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “দাতাসংস্থাগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও চুক্তির অগ্রগতি সন্তোষজনক। এখন আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত ছাড় করে নির্ধারিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি বৃদ্ধি করা।”

    আরও পড়ুন