৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • বরিশাল
  • খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী
  • খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী

    Icon
    জেলা প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে যে-সব প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছে, ভোটারদের হাত থেকে কালির দাগ মুছে যাওয়ার আগেই তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তারমধ্যে দেশব্যাপী আগামী ৫ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি অন্যতম।

    আজ সারাদেশে ৫৩টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যারা জড়িত তারা যদি কোনো প্রকার দুর্নীতির আশ্রয় নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সোমবার (১২ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন ও বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর মৌজায় ‘কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন’ উপলক্ষে কুতুবপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী খাল খনন প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই প্রকল্প দেশে সবুজের বিপ্লব ঘটাবে। এতে করে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এ সময় তিনি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গৌরনদীতে ১২০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানান। তবে প্রাথমিকভাবে পাঁচ কিলোমিটার খালের দুই কিলোমিটারের কাজ আজ থেকে শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

    মন্ত্রী সরকারি কাজে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলেন, জনগণ হলেন রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক আর আমরা যারা সরকারে আছি তারা হলাম চাকর। আপনারা আপনাদের মালিকানা পাই পাই করে আমাদের থেকে বুঝে নেবেন। এ সময় তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে চাই।

    সে লক্ষ্যে সরকার প্রধান কাজ করে যাচ্ছে। কেবিনেট থেকে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, প্রশাসন তা মাঠে বাস্তবায়ন করবে। এ সময় তিনি সরকারের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানে সরকারের তৎপরতা তুলে ধরে বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

    মন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যমকে স্বাধীন করতে হবে, যেন সরকারের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে যেন এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বয়স একমাস হয় নাই। আমাদের ভোটারদের ভোটের কালির দাগ এখনো যায় নাই। কিন্তু আমাদের দেওয়া পাঁচটি প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাস্তবায়ন করেছি। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বণ্টন করা হয়েছে, কৃষক কার্ড বণ্টনের জন্য প্রস্তুতি চলছে, কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে, ইমামদের ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে, আজকে খাল খননের উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে খাল খনন কাজ শুরু হয়ে গেল। আমি মন্ত্রী হিসেবে সরকারের এই তৎপরতার একটি বিবরণ ঈদের পরপরই সব গণমাধ্যমকে ডেকে জাতিকে অবহিত করবো।

    তিনি বলেন, কৃষি বিপ্লব ও জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ প্রকল্পের ফলে স্থানীয় কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূ-পরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    তিনি আরও বলেন, আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বিগত সরকারের সঙ্গে তারেক রহমানের পার্থক্য এখানেই, তারেক রহমান যা বলেন তা তিনি মিন করেন এবং প্রচলিত রাজনীতিবিদদের মতো কথার কথা তিনি বলেন না। ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে তিনি তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমাদের এই তৎপরতাকে জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতার ব্যবস্থা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ. জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, বিএডিসি বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতারা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫ বছর আগে কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খালটি খনন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় খালটি তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে খালের পাড়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে কোনো চাষাবাদ হতো না। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় অবশেষে কুতুবপুর স্ব-নির্ভর খালের পুনঃখনন কাজ শুরু হলো। খালটির দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২ কিলোমিটার অংশের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ অংশ পুনঃখনন করা হবে। খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে ওই এলাকার প্রায় নয়শ’ একর কৃষি জমি সেচ ও পানি নিষ্কাশন সুবিধার আওতায় আসবে, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিএডিসি কর্মকর্তারা।

    আরও পড়ুন