| |
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা
  • বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা

    Icon
    ​মো: শরীফুল ইসলাম
    প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

    ​স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অন্যতম বিশ্বস্ত ও বড় আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে বিশ্বব্যাংক। ১৯৭২ সালে সম্পর্ক শুরুর পর থেকে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কারসহ নানা খাতে ধারাবাহিক অর্থায়ন ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে আসছে সংস্থাটি।

    দেশের সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ এবং স্থানীয় সরকার অবকাঠামোর মানোন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের অবদান ব্যাপক। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জাতীয় গ্রিড শক্তিশালীকরণে সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ও অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

    একসময়ের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলা দেশটি থেকে দারিদ্র্য হ্রাস করে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার যাত্রায় বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (IDA) গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক মূলধন যুগিয়েছে। অতিদরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী (Social Safety Net) তৈরি, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা প্রদান এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে ধারাবাহিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

    প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ, মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পগুলো মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছে। পাশাপাশি, পুষ্টি প্রোগ্রাম এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো বিনির্মাণে অর্থায়ন করে মানবসম্পদ উন্নয়নেও সরাসরি অবদান রাখছে সংস্থাটি।

    জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং আগাম সতর্কবার্তা সংকেত ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বিশ্বব্যাংক।

    অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে কারিগরি সহায়তা ও বাজেট সহায়তা দিয়ে আসছে সংস্থাটি। ব্যাংক খাতের সুশাসন জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজীকরণের লক্ষ্যে নীতিগত সংস্কারেও বিশ্বব্যাংক বিশেষ ঋণপ্রকল্প অনুমোদন করেছে।

    ​বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৩৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ ও অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশই ছাড় হয়েছে ছাড়যুক্ত সুদে (IDA credit)।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে পারলে আগামীতে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ গঠনের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের এই দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

    আরও পড়ুন