| |
শিরোনাম
অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর আলজেরিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক জ্বালানি সহযোগিতার নতুন সুযোগ : হুমায়ুন কবির আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প মোংলায় প্রধানমন্ত্রী, কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছে মানুষ আওয়ামী লীগ ১৭ বছর গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে: তথ্যমন্ত্রী ঢাকা থেকে দাম্মাম-রিয়াদগামী ফ্লাইট আবার স্থগিত ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ঘটনা ছাড়াই দুর্গোৎসব হলো: মীর শাহে আলম
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • চাঁদাবাজ ও দখলদারদের দলে জায়গা নেই: তারেক রহমান
  • চাঁদাবাজ ও দখলদারদের দলে জায়গা নেই: তারেক রহমান

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। একই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এবং প্রকৃত অর্থে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদাবাজি, দখলদারি ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে।

    রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

    সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা চলে এ বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা, সরকারের কার্যক্রম, সংসদ পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের চিফ হুইপ বলেন, গত মাসের ১০ তারিখে সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হয়েছে। আগামী মাসে আবার নতুন অধিবেশন শুরু হবে। সাধারণত দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে এ ধরনের বৈঠক হয় না। তবে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের সমস্যার কথা শোনা এবং সমাধানের পথ বের করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠকের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

    তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ সদস্যদের কথা শুনেছেন। কে কোথায় কী সমস্যায় পড়েছেন, সেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা নিজ নিজ দায়িত্বের বিষয়গুলোতে কথা বলেছেন। স্থানীয় সরকার, আইনশৃঙ্খলা, বিচার বিভাগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং শিক্ষা খাতের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় এসেছে।

    চিফ হুইপ বলেন, সরকারের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা এবং মানুষের কাছে সরকারের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সরকারের কার্যক্রম মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, কোথাও সমস্যা থাকলে তা সংসদ নেতা ও মন্ত্রীদের জানাতে সংসদ সদস্যদের বলা হয়েছে। আলোচনার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এবং প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন—এমন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, কবে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন সাধারণত সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় সরকারের সুবিধা-অসুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন সময় ও অন্যান্য কার্যক্রম নির্ধারণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও বিএনপি একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বিএনপির সংগঠন তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। সে কারণে প্রতিটি ইউনিয়নসহ স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের ব্যবস্থা ছিল। এবার দলীয় প্রতীক না থাকায় বিএনপি চায়, নির্বাচন ঐক্যবদ্ধ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং স্থানীয় সরকারের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম ব্যক্তিরা যেন নির্বাচিত হন, সেটিই দলের লক্ষ্য। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। দল তখন সিদ্ধান্ত নেবে।

    এছাড়াও আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ ।

    তিনি বলেন, পূজায় যাতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন কাজ করবে। পাশাপাশি বিএনপির নেতৃবৃন্দ, কর্মী এবং সংসদ সদস্যদেরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকতে বলা হয়েছে। সনাতন সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কেউ যাতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং তাদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বৈঠকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে থাকার কথা বলা হয়েছে।

    চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিএনপিতে কোনো জায়গা নেই। কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে অন্যায় করে পার পেয়ে যাবেন, এমন সুযোগ দল দেবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

    বৈঠকে সংসদ কীভাবে পরিচালিত হবে, সংসদে সদস্যদের ভূমিকা কী হবে এবং সংসদের বাইরে দলের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁদের করণীয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের কার্যক্রম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আরও পড়ুন