অন্যদিকে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয়ের ব্যবধানও নজর কেড়েছে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজারেরও বেশি ভোট। এই ফলাফলে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের রেকর্ডও ছাপিয়ে গেছেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ।
পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে দুই আসনেই জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম, দুই আসনেই রেকর্ড ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির প্রার্থীরা। এর ফলে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পাওয়া ২০৮টি আসনের সঙ্গে আরও দুটি আসন যুক্ত হয়ে বিজেপির ঝুলিতে আসনসংখ্যা দাঁড়াল ২১০। মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও বিজেপির এই জয় রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের এই ফলাফলকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিজেপি। বিশেষ করে রেজিনগরের মতো মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়কে নিজেদের রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবেই তুলে ধরছে দলটি। বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া ‘বন্ধুত্বের অফার’ গ্রহণ করেছেন দুই কেন্দ্রের ভোটারদের একাংশ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা মেরে শুভেন্দু বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাতীয় কংগ্রেসকে কত গালমন্দ করেছিলেন নেত্রী। সেই কংগ্রেসকেই এবারের উপনির্বাচনে সাপোর্ট করেছেন। কে বিশ্বাস করবে আপনাকে?
এদিকে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই নওদার বিধায়ক তথা এজেইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তিনি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি নওদার মানুষ চাইলে বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন বলে জানান তিনি। শুধু তাই নয়, এর আগে হুমায়ুন বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যত দিন বিধানসভায় থাকবেন, তত দিন বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। এ কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কে পার্টি করবে, কে করবে না, গণতন্ত্রে তার নিজস্ব অধিকার রয়েছে। এ বিষয়ে কিছুই বলার নেই।
জয়ের পর নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রেজিনগরে বিজেপির সাফল্যের পেছনে সংখ্যালঘু ভোটের বড় ভূমিকা রয়েছে। তার কথায়, এত বড় জয় বা ফলাফল কখনোই হতো না, যদি না রেজিনগরের ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু মুসলিম দিদি, বোন, অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকরা তাঁদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতেন। রেজিনগরে আমরা যে ভোট পেয়েছি, তার মধ্যে একটা বড় অংশ সংখ্যালঘুদের ভোট। প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা প্রকল্পের আওতায় নারীদের মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী, তিনি ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেন। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের নেতা হুমায়ুন কবীর রেজিনগর ও নওদা, দুই আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর আসন ছেড়ে দেন। ফলে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। গত ৩ অক্টোবর ভোটগ্রহণের পর ৬ অক্টোবর ভোটগণনা অনুষ্ঠিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি এদিন তামিলনাড়ুর মাদুরান্তাকম ও ধারাপুরম এবং পুডুচেরির থাট্টানচাভাদি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের ফলও প্রকাশিত হয়। তামিলনাড়ুতে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শাসকদলের সাফল্য নজর কেড়েছে। ধারাপুরম কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন টিভিকে প্রার্থী পি. সথ্যাবামা। অন্যদিকে, মাদুরান্তাকম কেন্দ্রেও টিভিকে প্রার্থী মারাগাথাম কুমারাভেলের জয়ের খবর সামনে এসেছে। পুডুচেরির থাট্টানচাভাদি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন ক্ষমতাসীন জোট এআইএনআরসির প্রার্থী অশোক আনন্দ।
পশ্চিমবঙ্গের দুই উপনির্বাচনে বিজেপির জয় এবং রেজিনগরে সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

























