বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা, বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রাম এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিলাই। নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করে।
শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুরে তার নাম ঘোষণা করে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) বিচারক হিসেবে নানা চ্যালেঞ্জিং ভূমিকা পালন করেছেন নাভি পিলাই। বিশেষ করে উইঘুর শরণার্থী, নিপীড়িত জনগোষ্ঠী এবং যুদ্ধাক্রান্ত এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন সোচ্চার।
নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে মানবতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নাভি পিলাইয়ের আজীবন নিবেদিত সংগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসনে তাঁর অনন্য অবদানকে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে কাজ করেছেন পিলাই। পরে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্বেও পালন করেন তিনি।
এর আগে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটির জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরশাসন থেকে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয় বলে জানায় নোবেল কমিটি।
২০১৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন পাকিস্তানের নারীশিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ইউসুফজাই। নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি তিনি।
অন্যদিকে, ১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী ও শান্তিকর্মী জোসেফ রটব্লাট। পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী প্রচেষ্টা এবং পাগওয়াশ আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় নাভি পিলাই জানান, এই স্বীকৃতি তাঁর একার নয়; বরং বিশ্বজুড়ে যারা নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং মানবাধিকারের পক্ষে লড়াই করছেন, এই পুরস্কার তাঁদের সবার।
























