| |
  • প্রচ্ছদ
  • পর্যটন
  • বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন ১০ এয়ারবাস
  • চুক্তি চূড়ান্ত

    বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে নতুন ১০ এয়ারবাস

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন

    জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ইউরোপীয় বহুজাতিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করেছে। বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিধি বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

    নতুন প্রজন্মের এসব উড়োজাহাজ ২০৩৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এয়ারবাসের সঙ্গে একটি ক্রয়চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

    রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত বিশেষ চুক্তি সই অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ মোট ১০টি আধুনিক এয়ারবাস ক্রয় করবে। এর মধ্যে রয়েছে ৪টি প্রশস্ত কাঠামোর (Wide-body) এ৩৫০-৯০০ এবং ৬টি সরু কাঠামোর (Narrow-body) এ৩২১নিও উড়োজাহাজ।

    সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজগুলো মূলত দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে পরিচালিত হবে এবং এ৩২১নিও উড়োজাহাজগুলো ব্যবহার করা হবে আঞ্চলিক ও মাঝারি দূরত্বের ফ্লাইটগুলোতে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশীদুজ্জামান মিয়াজ্জাত বলেন, এই উদ্যোগ শুধু উড়োজাহাজ কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশকে আধুনিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিমানের বহর, রুট নেটওয়ার্ক ও পরিচালন সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।

    বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ মাহমুদ বলেন, দেশের বড় জনগোষ্ঠী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় দেড় কোটি বাংলাদেশির সঙ্গে শক্তিশালী বৈশ্বিক যোগাযোগ প্রয়োজন। এ বাস্তবতায় বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে তিনি বাস্তবসম্মত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

    এয়ারবাসের নির্বাহী সহসভাপতি মনোয়া দ্য সাঁ-এক্সুপেরি বলেন, এ৩৫০ ও এ৩২১নিও-এর সমন্বয়ে বিমানের জন্য কার্যকর একটি বহর কৌশল তৈরি হবে। এর মাধ্যমে নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সম্প্রসারণ এবং বাড়তে থাকা যাত্রী চাহিদা পূরণে এয়ারবাসের উড়োজাহাজগুলো সহায়তা করবে।

    এ সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এয়ারবাস কেনার চুক্তি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার।

    তিনি বলেন, এয়ারবাস বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন।

    মাইকেল মিলার বলেন, এয়ারবাস কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এটি বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্কের দিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

    এ চুক্তিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা এবং অর্থের যথাযথ মূল্য পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

    অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার উপস্থিত ছিলেন।

    এয়ারবাসের সঙ্গে বিমানের সহযোগিতা শুধু উড়োজাহাজ কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উড়োজাহাজ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, এভিয়েশন প্রযুক্তি ও প্রকৌশল, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরিতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশগতভাবে টেকসই এভিয়েশন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমানের বহর আধুনিকায়নের সুফল যাত্রী, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য উন্নত আকাশ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে কাজে লাগানো হবে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বর্তমানে ঢাকা থেকে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সেবা পরিচালনা করছে।

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের এসব আধুনিক উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমানের রুট সম্প্রসারণ ও যাত্রীসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। নতুন এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।

    আরও পড়ুন