| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত
  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

    চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত থামিয়ে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানকে নতুন ও সুনির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে ইরানকে অবশ্যই তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহ ও দৃশ্যমানভাবে’ কমাতে হবে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই শর্তের কথা জানান। ‘৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের প্রয়োজন কেন?’মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।

    তিনি বলেন, “ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না চায়, তবে তাদের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রয়োজন কী?” তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটন শুধু ফাঁকা প্রতিশ্রুতি বা মুখে বলা কথায় বিশ্বাস করবে না; যুদ্ধ থামানোর আলোচনায় নামার আগেই ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের লাগাম টেনে বাস্তবে তার প্রমাণ দিতে হবে।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) হিসাব অনুযায়ী, ইরান ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা পরমাণু বোমা তৈরির উপযোগী (৯০ শতাংশ) মাত্রার খুব কাছাকাছি। ‘ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে’এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হতে পারবে না।

    তিনি দাবি করেন, এর আগেও শান্তির সমঝোতায় পৌঁছানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ তেহরান হাতছাড়া করেছে। তাই ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

    তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা শর্তযুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব ও কঠোর অবস্থানের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

    তিনি মন্তব্য করেছেন, প্রতিবার আলোচনার টেবিলে বসার পরেই ওয়াশিংটন নতুন চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, ইরানও যুদ্ধ বিরতির জন্য নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে।

    তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া হলেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা এবং পরমাণু আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

    উভয় পক্ষের এমন মুখোমুখি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির কূটনৈতিক সম্ভাবনা এখনো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

    সূত্র: রয়টার্স

    আরও পড়ুন