| |
  • প্রচ্ছদ
  • প্রবাস কথা
  • জার্মানিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তীব্র আবাসনসংকট
  • স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তা

    জার্মানিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের তীব্র আবাসনসংকট

    Icon
    প্রবাসী প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

    জার্মানির নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে বিপুল উৎসাহ নিয়ে পাড়ি জমালেও পৌঁছানোর পরই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। সেদেশে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করার আগেই তাঁদের পড়তে হচ্ছে তীব্র আবাসনসংকটে।

    বাসা বা থাকার জায়গা খুঁজে পেতে মাসের পর মাস সময় লেগে যাচ্ছে, যার ফলে নতুন আসা শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা ও মানসিক উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জার্মানিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও সে অনুযায়ী ছাত্রাবাস (Student Dormitory) বা সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসার সংখ্যা বাড়েনি।

    ফলে বিশেষ করে মিউনিখ, বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্টুটগার্ট ও হামবুর্গের মতো বড় শহরগুলোতে শিক্ষার্থী ডরমিটরি পেতে প্রায় এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত অপেক্ষমাণ তালিকায় (Waiting List) থাকতে হচ্ছে।

    নতুন পৌঁছানো শিক্ষার্থীরা সাধারণত প্রারম্ভিক সময়ে অস্থায়ী হোস্টেল, এয়ারবিএনবি (Airbnb) অথবা পরিচিতদের বাসায় স্বল্পমেয়াদে উঠছেন। তবে এর খরচ ডরমিটরির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় অর্থাভাবে পড়ছেন অনেকে।

    উপরন্তু, স্থায়ী ঠিকানা বা ‘অ্যানমেলডাং’ (Anmeldung – ঠিকানা নিবন্ধন) ছাড়া ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা, স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করা কিংবা কাজের অনুমতি (Work Permit) পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    মিউনিখ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে সদ্য ভর্তি হওয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া যতটা কঠিন ছিল, এখানে এসে থাকার জন্য একটি ঘর খুঁজে পাওয়া তার চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্থায়ী জায়গায় থাকার কারণে স্বাভাবিক পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

    বিশেষজ্ঞ ও প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর মতে, এই সংকট কাটাতে শিক্ষার্থীদের জার্মানি পৌঁছানোর অন্তত ৩-৪ মাস আগেই আবাসন খোঁজা শুরু করা উচিত। ছোট শহর বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বাসা খোঁজা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অফিস (International Office) ও স্থানীয় স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (Studentenwerk)-এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

    জার্মানির বিভিন্ন শহরে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে আসা এই তরুণ মেধাবীদের আবাসন জটিলতা দ্রুত নিরসন না হলে তাঁদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুন