মোঃ শরীফুল ইসলামঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভাষণ বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের একটি সুনির্দিষ্ট, সময়োপযোগী ও সুচিন্তিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে।
বিগত সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও প্রশাসনিক ক্ষত পেছনে ফেলে একটি নতুন, সমৃদ্ধ ও শান্তিময় বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বিশ্বমঞ্চে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, তা এক নতুন আশার সঞ্চার করে।
বিশ্বনেতাদের সামনে দেশের সার্বিক পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব পুনরুদ্ধারে ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রিস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) কৌশল অর্থাৎ পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠন ফ্রেমওয়ার্কের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
একটি দেশের টেকসই রূপান্তরের জন্য অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুনির্দিষ্ট সংস্কার কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং দেশি-বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ‘থ্রি-আর’ কাঠামোর সফল বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য বা অনুদানের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে দেশের নিজস্ব সামর্থ্য ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার সংকল্পের যে প্রতিফলন ঘটেছে, তা স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো এখনই মোকাবেলা করতে হবে।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবিকতা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে বৈশ্বিক ব্যর্থতা এবং এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় তৈরি হওয়া ঝুঁকি সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ, গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান বিশ্বজুড়ে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সমন্বয় জোরদার করবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা ধরে রাখা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথকে টেকসই করতে হলে এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে হবে। ‘থ্রি-আর’ কৌশলের ভিত্তিতে পরিকল্পিত সংস্কার বাস্তবায়নে পুরো জাতিকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বিশ্বমঞ্চে যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে, রাজনৈতিক স্থিরতা ও সঠিক নীতি-কৌশলের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক “এশিয়ান দর্পণ”
























