| |
  • প্রচ্ছদ
  • মুক্তমত
  • সবার হৃদয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • সবার হৃদয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

    Icon
    প্রফেসর ড. চৌধুরী মোহাম্মদ মনিরুল হাসান
    প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন

    স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, সামাজিক যোগাযোগ, রাষ্ট্রীয় রীতিনীতি, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ইত্যাদি কারণে ইতিমধ্যে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো দীর্ঘ নির্বাসনের পর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত হওয়া। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ কেবল একজন নেতার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

    তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় আশির দশকে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে। তবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন ২০০২ সালে, যখন তাঁকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সংগঠিত করতে তাঁর ‘তৃণমূল সম্মেলন’ কর্মসূচি সে সময় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় বিদেশে অবস্থান করেন তারেক রহমান।

    এই সময়ে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করেন এবং সেখান থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে- ক্ষমতার পালাবদল, গণতান্ত্রিক বিতর্ক, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের নানা আলোচনা সামনে আসে।

    দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারেক রহমান দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে একটি সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করেছেন। বর্তমান যুব সমাজ সংস্কারমুখী রাজনীতির যে দাবি তুলছে, তারেক রহমান তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে সেই সুরেই কথা বলছেন। তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন: ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে যুবকদের অংশগ্রহণই হবে নতুন বাংলাদেশের মূল ভিত্তি’।

    দেশে ফেরার মুহূর্তটি ছিল প্রতীকী। দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাচনের পর জনাব তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন মাত্রা লাভ করে এবং জাতীয় রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। দেশে ফেরার পরপরই সামনে আসে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে যায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি নতুন কৌশল গ্রহণ করে এবং তরুণ নেতৃত্বকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়।

    বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে এবং সরকার গঠনের সুযোগ লাভ করে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসে।

    নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এই শপথ অনুষ্ঠানকে অনেক বিশ্লেষক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, এটি দীর্ঘ নির্বাসনের পর একজন নেতার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের একটি বিরল উদাহরণ। দ্বিতীয়ত, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার একটি নতুন ভারসাম্য তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প চিন্তা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান-যিনি রাজনীতিতে একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শন উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য প্রায়ই শোনা যায়- “I have a plan for the people of my country and for the country.” এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম সপ্তাহ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা নির্বাচনী ইস্তেহার বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো:

    ফ্যামিলি কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার: নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষাখাতে সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে শহর ও গ্রাম মিলিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানজনক ভাতা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এখানে উল্লেখ্য। ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

    কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচি: সরকারের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হচ্ছে কৃষক কার্ড চালুর প্রস্তুতি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকি, স্বল্পসুদে ঋণ এবং সার-বীজ সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষিখাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে এবং কৃষক সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবে।

    খাল খনন ও পানি ব্যবস্থাপনা পুনরুদ্ধার প্রকল্প: গ্রামীণ কৃষি ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে খাল খনন কর্মসূচি নতুন করে চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প: বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার দিকে জোর দিয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা খাতে সংস্কার ও ডিজিটাল রূপান্তর উদ্যোগ: শিক্ষা খাতে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজে প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান চালু করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।

    মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থা সংস্কার প্রকল্প: সরকার বিচারব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রবাসী কল্যাণ ও আন্তর্জাতিক সংযোগ উন্নয়ন: বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তা সেল গঠন করা হয়েছে।

    বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী জুলাই মাস থেকে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নিয়েছেন, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম আরেকটি হলো- ক্রীড়া কার্ড চালু করা। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিদেশ ভ্রমণ ও উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণমুক্ত আর্থিক সহায়তা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই মাসে প্রায় ষাটটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক অবিস্মরণীয় অর্জন নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমান এ বছর বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইমের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, নেতৃত্ব এবং জনমুখী কর্মসূচি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পথচলা নির্ভর করবে এই নীতিগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর। তবে সাম্প্রতিক উদ্যোগসমূহ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ খুব শিগগিরই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।

    লেখক: অধ্যাপক, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

    আরও পড়ুন