ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে ঢাকা ক্রমাগত চাপ দিয়ে গেলেও দিল্লি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ঢাকা একাধিকবার দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অনুরোধ ও ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়েছে। সবশেষ ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের মূল বক্তব্য হলো—জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা ও সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।
বাংলাদেশের হস্তান্তরের অনুরোধটি দিল্লি তাদের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকারের আবেদনটি বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে নিজ দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেয়নি বলেও সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে। ভারতে অবস্থানকালীন শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য ও ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের তরফ থেকে বারবার জোর দিয়ে বলা হচ্ছে, যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে শেখ হাসিনা বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো সদস্য উসকানিমূলক রাজনৈতিক মন্তব্য বা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মতো পদক্ষেপ না নিতে পারেন। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি চলতি বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে এসে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে এবং আত্মপক্ষ সমর্থন করতে প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া না-দেওয়ার বিষয়টি ভারতের জন্য অত্যন্ত জটিল এক কৌশলগত সমীকরণ।
একদিকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি ও ভৌগোলিক সম্পর্কের সমীকরণ, অন্যদিকে নিজেদের আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক মিত্রতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়েই বর্তমানে দিল্লি সিদ্ধান্তহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।























