ঢাকায় গত এক মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬৫৮ জন চাঁদাবাজ এবং ৯৭১ জন ছিনতাইকারী, ডাকাত ও সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ডিএমপির বিভিন্ন অপারেশনাল ইউনিট মোট ২ হাজার ৮৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে ৬৫৮ জন চাঁদাবাজ, ৯৭১ জন ছিনতাইকারী, ডাকাত ও সন্ত্রাসী এবং ১ হাজার ২১৫ জন মাদক কারবারি রয়েছেন।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ সময়ে ৭৪৪ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৭৯ হাজার ইয়াবা, ৪০৫ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ২৮১ বোতল ফেনসিডিল, ২৮ লিটার দেশি-বিদেশি মদ, ২৯ গ্রাম আইস, ৭৮টি ট্যাপেন্টাডল ও ২০টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযান চালিয়ে ৬টি দেশি-বিদেশি পিস্তল, ২১ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ৪টি ম্যাগাজিন, ১১টি ককটেল এবং ১২টি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ৬ জন চীনা নাগরিকসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ৫২৩টি মোবাইল ফোন, ২৯৩টি সিমকার্ড, ৪টি মাইক্রোবাস, ৬টি প্রাইভেটকার, একটি কাভার্ডভ্যান, একটি বাস, ৯টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ১৫টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময়ে বর্ধিত টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট, অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সিসিটিভিসহ প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়। এসব পদক্ষেপের ফলে ঈদের ছুটির সাত দিনে আড়াই থেকে তিন কোটি মানুষের এই মেগাসিটিতে কোনো ডাকাতি বা চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি চুরি, ছিনতাই ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এছাড়া রাজধানীর মুগদা এলাকায় সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করার আলোচিত ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি ইউনিট। এ মামলায়ও দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এছাড়া গত ১৪ মে রসুলনগর ক্যানেলপাড় পাকা সড়কে ৬ থেকে ৭ জনের একটি ডাকাতদল মো. আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে টাকা লুট করে তাকে চিটাগাং রোডের মদনপুর এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ডেমরা থানা পুলিশ ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করে চারজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি হায়েস মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ শামসুল হক উপস্থিত ছিলেন।


























