সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দুই ফুটবল পরাশক্তি বাংলাদেশ ও ভারত। শুক্রবারের এই মেগা ফাইনালে কেবল শিরোপার হাতছানিই নয়, মারিয়া মান্দাদের সামনে থাকছে গ্রুপ পর্বে পাওয়া বড় হারের প্রতিশোধ নেওয়ার এক মোক্ষম সুযোগ।
সেমিফাইনালের কঠিন পরীক্ষা উতরে দুই দলই এখন প্রস্তুত চূড়ান্ত এই মহারণের জন্য। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের জয়টা অবশ্য খুব একটা সহজে আসেনি। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অপরাজিত ভারত শুরু থেকেই ভুটানের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ শানালেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পাচ্ছিল না। ভুটানের জমাট রক্ষণভাগ বারবার হতাশ করেছে ভারতীয় ফরোয়ার্ডদের।
তবে সব প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন নংগ্রুম। শেষ পর্যন্ত তার করা এই একমাত্র গোলেই স্বস্তির জয় নিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে ভারত।
এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার লড়াই ছিল পরতে পরতে রোমাঞ্চে ভরপুর। ম্যাচের ২৩ মিনিটেই গোল হজম করে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমার এক জাদুকরী ‘অলিম্পিক গোল’ লাল-সবুজদের ম্যাচে ফেরায়। এরপর ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে সাগরিকার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ২-১ গোলের শ্বাসরুদ্ধকর জয় নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফের ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হওয়াটা বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল মানসিক পরীক্ষাও বটে। কারণ, এবারের টুর্নামেন্টেই গ্রুপ পর্বের দেখায় ভারতের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে মারিয়া মান্দার দলকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছিল ভারতীয়রা।
শুক্রবারের ফাইনালে তাই একদিকে ভারতের সামনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে সুযোগ গ্রুপ পর্বের সেই ক্ষতে প্রলেপ দিয়ে শিরোপা উল্লাসে মেতে ওঠার।


























