৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • লীড-২
  • ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপাবে এনসিটিবি
  • খরচ ১৭০০ কোটি টাকা

    ৩০ কোটি ৬১ লাখ পাঠ্যবই ছাপাবে এনসিটিবি

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

    এবার ৩০ কোটি ৬১ লাখেরও বেশি বই ছাপানো হবে। ৫৯৬টি লটে এসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এতে খরচ হবে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি। আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

    পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র জানায়, ঈদের ছুটির পর জুনে ধাপে ধাপে পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণে দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্র মূল্যায়ন, চুক্তি শেষে আগস্ট থেকে ছাপাখানা মালিকরা বই ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ শুরু করবেন। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপানো শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহ করা হবে।

    ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির জন্য এবার ২২ কোটি ১০ লাখ ৪১ হাজার ৪৯৩ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। ৪৫৬ লটে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরমধ্যে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ৭৫ লট করে মোট ২২৫ লট। শুধু নবম-দশমে ১৮০ লট। এছাড়া ইবতেদায়ি শ্রেণিতে ৩৬ এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩৬ লট ব্রেইল বই ছাপানো হবে। মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির এসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে ব্যয় হবে মোট এক হাজার ২৫৪ কোটি টাকা।

    প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ৮ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭৮ কপি পাঠ্যবই ছাপানো হবে। এরমধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের বইয়ের সংখ্যা ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০ কপি। আর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ছাপা হবে ৭ কোটি ৯৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৩৮ কপি বই। মোট ১৪০ লটে এসব বই ছাপানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরমধ্যে ১১০ লট প্রাথমিকের ও ৩০ লট হবে প্রাক-প্রাথমিকের বই। এসব বই ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহে সরকারের খরচ হবে ৪৬০ কোটি টাকা।

    ২০১০ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া শুরু করে সরকার। সে বছর সব বই ছাপা ও বিতরণ শেষ হয়েছিল ২১ জুলাই। অর্থাৎ, বই পেতে বছরের অর্ধেক সময় চলে যায়। বিনামূল্যে বই ছাপা ও বিতরণে প্রথম বছরের সেই ব্যর্থতা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি কোনো সরকার।

    টানা ১৬ বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতে বই তুলে দিতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। চলতি শিক্ষাবর্ষেও সব বই বিতরণে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় লেগেছে। এতে শিক্ষাবর্ষ দেরিতে শুরু হচ্ছে, প্রয়োজনের চেয়েও কম ক্লাস হচ্ছে। সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠছে শিক্ষার্থীরা। বাড়ছে শিখন ঘাটতি, আর তলানিতে নামছে শিক্ষার মান।

    তবে, এবার পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আগে সব ব্যর্থতা কাটিয়ে বছরের প্রথমদিনে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে চায়। এবার এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) পদে নতুন দায়িত্বে এসেছেন অধ্যাপক আবু নাসের টুকু। তিনি উৎপাদন নিয়ন্ত্রক হিসেবে ২০২৬ (চলতি বছর) শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকের বই সফলভাবে জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এবার তার কাঁধে বড় দায়িত্ব।

    অধ্যাপক আবু নাসের টুকু বলেন, আমরা একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। সেটা হলো- ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপানোর কাজ শেষ করা হবে। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যেই সব উপজেলা শিক্ষা অফিসে বই পৌঁছে দেওয়া হবে। সেখান থেকে স্কুলে বই পাঠানো হবে। তাহলে ১ জানুয়ারি আমরা সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে পারবো।

    তিনি বলেন, এ লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। জুনে টেন্ডার হবে, আগস্টে বই ছাপার চুক্তি করা শুরু হবে। চুক্তির পর হয়তো দুই মাসের মতো সময় পাবেন ছাপাখানা মালিকরা। সেক্ষেত্রে নভেম্বরের মধ্যেই সব বই ডেলিভারি দিতে হবে। এটা করতে পারলেই বই বিতরণে আর দেরি হবে না। আমরা সবাই মিলে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি। আশা করি, আমরা সফল হবো।

    আরও পড়ুন