বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ১০ দিনব্যাপী মনীষীদের শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে স্মরণ করা হয় ৪৪ গুণীজনকে। আজ ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আজ ছিল শেষ দিন। ১১ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী এই আয়োজনে ৪৪ গুণীজনকে স্মরণ করা হয়।
আজ বুধবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রথম পর্বে স্মরণ করা হয় জনপ্রিয় গণসংগীতের কিংবদন্তি ফকির আলমগীর-কে। ষাটের দশক থেকেই গণসংগীত গেয়ে আসছিলেন তিনি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ছিলেন ফকির আলমগীর।
বাংলাদেশের সব ঐতিহাসিক আন্দোলনে তিনি তার গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি শুধু গণসংগীত নয়, গেয়েছেন পপ ও আধুনিক গানও। জনপ্রিয় এই সংগীত শিল্পীকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।
এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পীর সহধর্মিণী সুরাইয়া আলমগীর। অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীর সহোদর ফকির সিরাজ ও শিল্পী আব্দুলহেল রাফি তালুকদার।
এরপর বিকাল ৫টায় স্মরণ করা হয় শিল্পী কলিম শরাফী-কে। তার পূর্ণ নাম মাখদুমজাদা শাহ সৈয়দ কলিম আহমেদ শরাফী। তিনি বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রথম সারির ব্যক্তিত্ব। দেশাত্মবোধক গানের ক্ষেত্রেও তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। বরেণ্য এই শিল্পীকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ব্যবস্থাপনা) মো. মিজানুর রহমান এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আজিজুর রহমান তুহিন। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আজিজুর রহমান তুহিন ও শিল্পী মোহনা দাস।
সন্ধ্যা ৬টায় স্মরণ করা হয় বাউল কবি ও গায়ক জালাল উদ্দিন খাঁ-কে। বিংশ শতাব্দীর বিশ থেকে ষাটের দশক অবধি প্রকৃত বাঙালিজনের এই গীতিকবি তার সাধনায় সক্রিয় ছিলেন। আত্মতত্ত্ব, পরমতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, লোকতত্ত্ব, দেশতত্ত্ব ও বিরহতত্ত্বের নামাঙ্কিতের মাঝে জালাল উদ্দিন খাঁ প্রায় সহস্রাধিক গান রচনা করেছিলেন।
প্রখ্যাত এই লোক কবি মালজোড়া গানের আসরেও ছিলেন অনন্য। জালাল উদ্দিন খাঁকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নাদিরা ইসলাম। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মো: আশিক, শিল্পী হীরক সরদার ও জয়িতা অর্পা।
সন্ধ্যা ৭টায় দিনের শেষ অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী মাহমুদুন্নবী-কে স্মরণ করা হয়। প্রয়াত এই গুণীশিল্পীকে নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারই সন্তান সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী রিদওয়ান নবী পঞ্চম। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী দূর্জয় রায় ও রোকসানা আক্তার রুপসা।


























