আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী উৎসবসহ ঈদের দিন রাজধানীতে বর্ণাঢ্য মিছিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ আয়োজন বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ওই কমিটির সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিন দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে ঈদের আগের দিন চাঁদরাতে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের যে কেউ এই মেহেদি উৎসবে শামিল হতে পারবেন। চাঁদরাতে চলবে ঈদের গান, কবিতা ও নানা আয়োজন।
ঈদের দিন সকাল ১০টায় জাতীয় ঈদগাহের সামনে (হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ) থেকে ঈদের মিছিল শুরু হবে। ঈদের নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা থেকে মিছিল নিয়ে ১০টার আগেই সবাই জড়ো হবেন।
ঈদের বর্ণাঢ্য মিছিলটি দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হওয়া মিছিলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মিছিলকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ঈদের মিছিলে ঐতিহ্য অনুযায়ী থাকবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি, প্ল্যাকার্ড, হাতি ও ঘোড়ার গাড়ি ইত্যাদি। ঈদের পরদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজন করা হবে ঘুড়ি উৎসব।
ঢাকার প্রাচীন এই ঘুড়ি উৎসবকে ঈদের উৎসবের সঙ্গে পালন করার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চার একটি মিথস্ক্রিয়া তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ৫০০ বছর আগে এই অঞ্চলে ঈদের মিছিল ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উৎসবের প্রতীক। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সুলতানি আমল থেকে শুরু করে মোগল সাম্রাজ্য চলাকালীন সময়েও ঈদের দিন বর্ণাঢ্য মিছিল হয়ে উঠেছিল ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। হাতি, ঘোড়া ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে ঈদের মিছিল নাগরিক জীবনের প্রাণবন্ত সামাজিক উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছিল।
আসিফ মাহমুদ বলেন, পরবর্তী সময়ে উপনিবেশিক শাসন ও উঁচু জাতের জমিদারদের সাংস্কৃতিক দমনে ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসে এই উৎসবের আমেজ।
বাঙালি মুসলমানের ওপর সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও স্বৈরাচারী শাসন ঈদের উৎসবকে একটি আমেজহীন ছুটির দিনে পরিণত করে। ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের ওপর আঘাত হানে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঈদের মিছিল আবারও শুরু হয়। গত বছর রাজধানীর ঈদ মিছিলে বিপুল মানুষের অংশগ্রহণ এ আয়োজনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল। ঈদ মিছিল শহরের সড়ক অতিক্রম করার সময় পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হন। শিশু, তরুণ ও প্রবীণ সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাস্তায় নেমে আসেন, ফলে পুরো শহর উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজনে শিশু-কিশোরদের আগ্রহী করতে ঈদের মিছিলের বড় একটি অংশজুড়েই থাকবে কিডস জোন। শত বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ এই ঈদ উৎসবে ব্যাপক উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নাগরিক উদ্যোগে এই আয়োজন বিধায় সর্বসাধারণের আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী যে কোনো তরুণও যুক্ত হতে পারবে এই আয়োজনের সঙ্গে।
এ আয়োজন বাস্তবায়নের জন্য গঠিত কমিটিতে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আব্দুল কাদের, লুৎফর রহমান, সারোয়ার তুষার, সাইয়েদ জামিল, সৈয়দা নীলিমা দোলা, আব্দুল্লাহ আল কাফি, আফজাল হোসাইন, আহনাফ তাহমীদ, আল আমিন টুটুল, আল মাশনূন, আরিফুর রহমান, মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, জাহিদ আহসান, জুবায়ের হোসাইন, তারেক এ আদেল, তুহিন খান, ডা. শাফিন ইব্রাহিম হোসাইন, নুসরাত তাবাসসুম, ফারদিন হাসান অন্তন, ফরহাদ সোহেল, মুহিম মাহফুজ ও হাসান ইনাম।



























