| |
  • প্রচ্ছদ
  • বিশ্ব
  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা চলছে: ট্রাম্প
  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

    Icon
    আন্তর্জাতিক ডেস্ক
    প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে খুবই ইতিবাচক আলোচনা চলছে। টানা তৃতীয় দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো হামলা না হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প যুদ্ধের অবসান নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার যথেষ্ট ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সর্বশেষ আলোচনা ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন আবারও আগের মতোই সামরিক অভিযান শুরু করবে।

    অন্যদিকে তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে, এমন দাবি অস্বীকার করেছে। ট্রাম্প জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধে তিনি শুক্রবার ইরানে মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে আলোচনার আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়।

    ইরানও একই সময়ে নিজেদের হামলা বন্ধ রেখেছে। জুনে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং তার জবাবে পাল্টা হামলা চলছিল। বর্তমান বিরতি সেই ধারাবাহিকতারই সাময়িক স্থগিতাদেশ।

    যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, তাদের হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে ফেলার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া। এই প্রণালীটি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।

    সংঘাত প্রশমনের আশা তৈরি হওয়ায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ৯ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আরও বলেন, পাঁচ মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে এসেছে, সংবাদমাধ্যমের এমন প্রতিবেদন সঠিক নয়।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ রয়েছে। মাঝারি পর্যায়ের অস্ত্রও অনেক আছে, আমাদের যতটা প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি। তবে আমি চাই, আরও বেশি থাকুক।’ তিনি জানান, বর্তমানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন করা হচ্ছে, বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

    ট্রাম্প বলেন, ‘এই ব্যবস্থার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। আমাদের কাছে এগুলো যথেষ্ট রয়েছে।’ হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলিও এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সব কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মজুত রয়েছে।

    তিনি বলেন, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ দেখিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করলে কী পরিণতি হয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি আরও বেশি অস্ত্র উৎপাদনের আহ্বান জানিয়েছেন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে। জবাবে তেহরান উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থাপনায়, পাশাপাশি ইসরায়েলের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

    জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। এতে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখা, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

    কিন্তু ১৩ জুলাই হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনীর ট্যাংকারে হামলার পর ওয়াশিংটন আবারও ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং দেশটির বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়, যাতে চার মার্কিন সেনা নিহত হন।

    ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী মার্কিন হামলায় দেশটিতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি

    আরও পড়ুন