| |
  • প্রচ্ছদ
  • Uncategorized
  • ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে ঢাকার রাজপথ
  • ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে ঢাকার রাজপথ

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

    ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অলিগলি ও রাজপথ। বাসাবাড়ি, দোকানপাটেও ঢুকে পড়েছে পানি। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমর সমান পানি জমেছে। নজিরবিহীন জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।

    রোববার (১২ জুলাই) মিরপুর, গুলশান, বনানী, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, গুলিস্তান, পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, খিলগাঁও, রামপুরা, মগবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জলাবদ্ধতা, যানজট ও দুর্ভোগ চড়মে।

    রাজধানীতে থেমে থেমে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, প্রায় ১৭ বছরের মধ্যে ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৭৫ মিলিমিটার। এর আগে সবশেষ ২০০৯ সালের একদিনে ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। টানা ভারী বর্ষণে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র‍্যাম্পের নিচের অংশসহ বনানী, খিলক্ষেতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    পল্টন, মতিঝিল, কমলাপুর থেকে স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট শামীম খান জানান, টানা বৃষ্টিতে মতিঝিল-কমলাপুর এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। নটরডেম কলেজের সামনের সড়ক, আরামবাগ থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনমুখী সড়ক এবং আরামবাগ মোড় থেকে ফকিরাপুল-কাকরাইল পর্যন্ত সড়ক পানির নিচে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি জমেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি ও এজিবি কলোনির ভেতরেও জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এখানকার বিভিন্ন ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। ফকিরাপুল, পুরান পল্টন, নয়াপল্টন, বিজয়নগর ও সেগুনবাগিচার বিভিন্ন সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রধান সড়কের পাশাপাশি আবাসিক এলাকার অলিগলিও পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

    জলাবদ্ধতায় সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে আটকা আছেন বহু মানুষ। মিরপুর থেকে সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট এসএমএ কালাম জানান, মিরপুরের অধিকাংশ এলাকায় নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বেগম রোকেয়া সরণির মূল সড়ক থেকে ভেতরের অলিগলি পর্যন্ত থইথই করছে পানি।

    শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, সেনপাড়া, মিরপুর ১০, ১১, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশনের বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান জমেছে। জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে, প্যান্ট গুটিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। গণপরিবহন সংকটের পাশাপাশি রিকশা ও সিএনজি চালকরা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া নিচ্ছেন।

    মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া ও মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে নামার সিঁড়ি ও লিফটের চারপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেককে স্টেশনের ভেতর বা ফুটওভারব্রিজে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

    সড়কে পানি জমে থাকায় গর্ত ও ম্যানহোল দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। অনেক সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ি মাঝপথে বিকল হয়ে পড়েছে। এতে মিরপুর-আগারগাঁও সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

    এসএমএ কালাম আরও জানান, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়ার ভেতরের সড়কগুলোতে বহু বাসাবাড়ির নিচতলা ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। মিরপুরের বাসিন্দারা বলছেন, মেট্রোরেল প্রকল্প শেষ হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ সমস্যা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

    মিরপুর থেকে সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট জাফর আহমদ বলেন, মিরপুরের সড়কগুলোতে থৈ থৈ জলরাশি। সকালে বৃষ্টি শুরু হতেই মিরপুরের কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া সড়ক মুহূর্তের মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটু ডোবা পানি, তো কোথাও থৈ থৈ করছে কোমর পানি।

    তিনি বলেন, রাস্তায় পানি ঠেলে যখন বড় বড় বাস কিংবা ট্রাকগুলো ঢেউ তুলে যায়, মনে হয় প্রমত্তা নদীর বুক চিরে যান্ত্রিক নৌবহর চলছে। বাস-ট্রাকের তোলা ঢেউয়ে ছোট ছোট সিএনজি আর রিকশাগুলোকে দুলতে দেখা গেছে।

    জাফর আহমদ আরও জানান, অনেক দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে মূল্যবান আসবাব ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ভিজে নষ্ট হচ্ছে। মালপত্র রাখার গোডাউন বা বেজমেন্টগুলো পানিতে ডুবে গেছে। গুলিস্তান, পুরান ঢাকা থেকে সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট গৌতম ঘোষ জানান, বঙ্গভবন, গুলিস্তান, সূত্রাপুর ও এলিফ্যান্ট রোড যান চলাচলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার বিভিন্ন দোকান ও শোরুমে পানি ঢুকে পড়ায় মালিকদের বালতি ও বেলচা দিয়ে পানি সেচতে দেখা গেছে।

    গৌতম ঘোষ জানান, এসব এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, অল্প বৃষ্টিতেও এসব এলাকায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা, ড্রেনে আবর্জনা জমে থাকা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদের একই ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

    মিরপুর কালশী থেকে স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মিরাজ মাহবুব ইফতি জানান, কালশী রোড ও সাংবাদিক আবাসিক এলাকায় কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। এলাকাবাসীকে জলাবদ্ধতায় ময়লা-দুর্গন্ধময় পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়েছে।

    সাংবাদিক আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মনির চৌধুরী বলেন, একটু মুষলধারে বৃষ্টি হলেই কালশী রোডে পানি জমে যায়। পানি নামতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। খাল ও ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় এ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্ষা এলেই এলাকার বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

    খিলগাঁও-রামপুরা-মগবাজার থেকে সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আবাদুজ্জামান শিমুল জানান, খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগসহ বিভিন্ন সড়ক কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। রামপুরা, মগবাজার, মধুবাগ ও নয়াটোলা এলাকার অলিগলিতেও হাঁটুপানি জমেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেককে সেই পানি মাড়িয়েই কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে।

    ধোলাইপাড়-যাত্রাবাড়ী থেকে স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ইসমাইল হোসেন জানান, ধোলাইপাড় এলাকায় সড়কে পানি জমেছে। যাত্রাবাড়ী মোড়ে বৃষ্টিতে খানাখন্দ তৈরি হয়ে যান চলাচলে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। নিচু এলাকায় পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগে পড়েছে।

    কালশী-ইসিবি-বিমানবন্দর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট জি এম মুজিবুর জানান, কালশী এবং বিমানবন্দর এলাকার অধিকাংশ সড়ক ও গলি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচেও পানি জমেছে।

    মিরপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির আহমেদ বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তিনি কোনো গাড়ি পাচ্ছেন না। কোনো সিএনজি পাচ্ছেন না। একটি সিএনজি ১০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দাবি করছে। সিএনজি চালক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা ও যানজটের কারণে একটি ট্রিপ শেষ করতেই দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। রাস্তায় যাত্রী থাকলেও গাড়ি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না।

    মাটিকাটা-ইসিবি এলাকার বাসিন্দা মো. কালাম বলেন, অফিসে বের হয়েই নোংরা পানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। গণপরিবহন পাওয়া যাচ্ছে না, আর যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে। কাকলী, বনানী ও মহাখালী এলাকাতেও জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান জিএম মুজিবুর।

    স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট মহিউদ্দিন মাহমুদ জানান, ভারী বৃষ্টিতে ফার্মগেট, গুলশান এলাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

    আরও পড়ুন