২০০৮ সালের পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ প্রথমেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে টার্গেট করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনী সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারত বলেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন। শুরুতে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতি ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দল বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে একসঙ্গে পদক্ষেপ নেবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পরিবর্তন না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য না হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তাকে সরানো সম্ভব হয়নি।
তখন রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক শূন্যতার কথা বলে তাকে বহাল রাখা হয়। তবে নতুন সরকার ও নতুন সংসদ গঠনের পর তার পদে থাকার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। এই রাষ্ট্রপতির চলে যাওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যাপার।
এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, জুলাই গণহত্যাসহ সে সময়ের হত্যাযজ্ঞে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে বঙ্গভবনে যাওয়া হলেও রাষ্ট্রপতির নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত।
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, এখন সময় এসেছে তাকে অভিশংসন করে অপসারণ। এবং প্রয়োজন হলে আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করার। একটি জাতীয় দৈনিকের সাক্ষাৎকার দিয়ে রাষ্ট্রপতি শপথ লঙ্ঘন করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে কোনোভাবেই তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থাকার যোগ্য না বলে মত দেন তিনি।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ২০০৮ সালের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই টার্গেট করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। কারণ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের রক্ষায় সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারত এই সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় প্রতিবেশী দেশ ভারত ও আওয়ামী লীগ জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে
তিনি বলেন, শুধু শ্রদ্ধা জানাতেই তারা সেখানে যাননি; পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ বিচার চান। বিডিআরের যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পুরো ঘটনার সত্য এখনো জাতির সামনে উন্মুক্ত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ।
সারাদেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যালয় খোলার বিষয়ে নাহিদ বলেন, সরকার জানিয়েছে তারা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে; কারণ আওয়ামী লীগ আইনগতভাবে এখন নিষিদ্ধ। এখন সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো গোপন চুক্তি হয়েছে কিনা এটা আমরা জানি না।
সরকার বা প্রশাসন যদি অফিস খোলার বিষয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধা করে দেয়, তাহলে জনগণের পক্ষ থেকে আমাদের প্রতিরোধের ডাক দিতে হবে।
































