সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অর্ধশত নেতাকর্মী। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসও রয়েছেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মওলানা রফিকুল ইসলাম খানের হাত ধরে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন তারা।
সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল জলিলের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে তিন নেতাকর্মী এবং ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ছানোয়ার হোসেন, আশরাফুল ইসলাম, ছাকোয়াত হোসেন, জিল্লার হোসেন, আল-মাহমুদ, শাহিদুল ইসলাম, রবিউল করিম, মাসুদ রানা, মানিক মিয়া, মজিদ মিয়া, দুলাল মিয়া, আবেদ আলীসহ ৪৭ নেতাকর্মী জামায়াতে যোগ দেন।
যোগদানকারীদের উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকের এ যোগদান প্রমাণ করে যে জনগণ আগামী দিনের রাষ্ট্রক্ষমতায় জামায়াতকে দেখতে চায়। দলে দলে মানুষের জামায়াতে যোগদানই তার বড় লক্ষণ। নতুন যোগদান করা নেতাকর্মীদের নিয়ে আগামীতে উল্লাপাড়াকে একটি আধুনিক ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, আজ দেশের মানুষ সব দল পরীক্ষা করে দেখেছে।
এখন সবার মুখে একটাই স্লোগান- সব দল দেখা শেষ, জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ। যারা জামায়াতের আদর্শের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে আজ দলে যোগ দিয়েছেন, তারা আগামী দিনের ইসলামী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলী, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক নুর মোহাম্মদ মণ্ডল, উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল আজাদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এদিকে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস উধুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ছেলে।
তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগ ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে করা হলেও তার নামে কোনো মামলা নেই বলে জানিয়েছেন উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাকিউল আজম।
উধুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল মালেক শান্ত বলেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট আমরা যখন মিছিল নিয়ে বের হই, তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে। সেখানে যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস আমাদের দেখিয়ে দেয় এবং ছাত্র সমাজের ওপর হামলা করে। তবে তার নামে কোনো মামলা নেই।
উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলীম বলেন, যোগদানকারী আব্দুল কুদ্দুস ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। জামায়াতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তখনই জানিয়েছেন। গতকাল ছিল সেটার আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলার কোনো মামলা আছে কিনা, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই।

































