ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিং বা ম্যানেজারের ভূমিকায় নয়, বরং ক্লাবের মালিক হিসেবেই নিজেকে দেখতে চান লিওনেল মেসি। সম্প্রতি লুজু টিভি নামের একটি স্ট্রিমিং চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
গত ডিসেম্বরে ধারণ করা এই সাক্ষাৎকারটি মঙ্গলবার অনলাইনে প্রকাশিত হয়। সেখানে ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক স্পষ্ট করে বলেন, কোচ হওয়ার চিন্তা তার নেই।
ক্লাব পরিচালনা ও গড়ে তোলার ধারণাটাই তাকে বেশি টানে।
মেসি বলেন, ‘কোচ হিসেবে নিজেকে আমি সত্যিই দেখি না। ম্যানেজার হওয়ার ভাবনাটা ভালো লাগে, তবে তিনটির মধ্যে যদি একটি বেছে নিতে হয়, তাহলে ক্লাবের মালিক হওয়াটাই আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ।’
নিজের স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তার ভাষায়, ‘আমি আমার নিজের ক্লাব চাই। নিচ থেকে শুরু করে তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে চাই, মানুষকে গড়ে তুলতে চাই এবং ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাব তৈরি করতে চাই।’
সাধারণত খুব কমই ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার দেন মেসি। এই আলাপচারিতায় ফুটবলের বাইরেও নিজের পরিবার, ব্যক্তিত্ব এবং ব্যক্তিগত অভ্যাস নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মেসি। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে ক্লাব মালিকানার পথে প্রথম পদক্ষেপ নেন তিনি। ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেজের নেতৃত্বে গড়া উরুগুয়ের নিম্নস্তরের ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম প্রকল্পে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হন মেসি।
এ ছাড়া মেসির পরিবার আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের আলভেয়ার শহরে অবস্থিত লেওনেস দে রোসারিও এফসির প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে আর্জেন্টিনার চতুর্থ স্তরের লিগ প্রিমেরা সি’তে খেলছে ক্লাবটি।
চলতি মৌসুমে দলটি রোসারিওর দক্ষিণে আররোয়ো সেকোতে নিজেদের ম্যাচ খেলবে।
সাক্ষাৎকারে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন মেসি। নিজেকে রোমান্টিক হিসেবে বর্ণনা করলেও খুব বেশি আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না বলে জানান তিনি। মেসির ভাষায়, ‘আমি রোমান্টিক, কিন্তু খুব বেশি দেখাতে পারি না।’
নিজের ব্যক্তিত্ব নিয়ে মজা করেও কথা বলেন এই বিশ্বকাপজয়ী। তিনি বলেন, ‘আমার ভেতরে এমন একটা দিক আছে, যেখানে আমি অসম্ভব রকমের অদ্ভুত। একা থাকতে আমি খুব উপভোগ করি।’ নিজেকে খুব গুছানো মানুষ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মেসি স্বীকার করেন, সমস্যাগুলো নিজের ভেতরেই চেপে রাখার প্রবণতা তার আছে। তার কথায়, ‘আমি সবকিছু নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখি, সমস্যাগুলো গিলে ফেলি। অনেক বদলেছি, তবুও কিছুটা এমনই আছি।’ তিনি জানান, বার্সেলোনায় খেলার সময় থেরাপিও নিয়েছিলেন।
মাঠের খারাপ সময়গুলোতেও নিজের সঙ্গে কঠোর আচরণ করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘অনেক ম্যাচে আমি খুব খারাপ খেলেছি, একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেছি। তখন নিজের ভেতরেই নিজেকে সব কথা শুনিয়েছি।’
জাতীয় দল থেকে সাময়িক অবসর নেওয়ার সময়টিও তাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছিল বলে জানান মেসি। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে টানা তিনটি ফাইনাল হারার পর আর্জেন্টিনা দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি ভীষণ অনুতপ্ত ছিলাম। জাতীয় দলের ম্যাচ দেখলেই খারাপ লাগত। সৌভাগ্যক্রমে আমি আবার ফিরতে পেরেছি।’
তরুণদের উদ্দেশে পরামর্শ দিতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো কখনও হাল না ছাড়া। যেকোনো কিছুর জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে। পড়ে গেলে আবার উঠতে হবে। আর যদি না-ও হয়, অন্তত জানবে যে নিজের স্বপ্নের জন্য তুমি সবকিছু দিয়েছ।’
আলাপচারিতায় নিজের নাচের অনীহা নিয়েও কথা বলেন এই তারকা। মেসির ভাষায়, তিনি সাধারণত নাচেন না, ‘শুধু তখনই নাচি, যখন একটু নেশাগ্রস্ত থাকি।’
প্রিয় পানীয় হিসেবে ওয়াইনের কথা উল্লেখ করে মেসি মজা করে বলেন, মাঝে মাঝে তিনি সেটার সঙ্গে স্প্রাইট মেশান, ‘যাতে একটু দ্রুত কাজ করে।’

































