চীনের তিব্বত অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬৫ জন। এছাড়া কম্পনের ফলে ওই অঞ্চলের বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ধসে পড়েছে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা জানতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) তথ্যমতে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। আহতদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি গ্রামের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।
সিইএনসির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় ৩ থেকে ৪ মাত্রার কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও সামরিক উদ্ধারকারী দলকে দুর্গম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে ২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭.১ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ২,৬৯৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন প্রায় তিন শতাধিক মানুষ।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের জনবিরল ও উঁচু পাহাড়ি শহর নাগকুতে। শক্তিশালী এই কম্পনের পর ওই এলাকায় চার শতাধিক আফটারশক (পরাঘাত) রেকর্ড করা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স

























