| |
  • প্রচ্ছদ
  • অর্থ ও বাণিজ্য
  • রপ্তানি-বিনোয়েগে নতুন আলো দেখাচ্ছে সিইপিএ
  • মেলেনি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা

    রপ্তানি-বিনোয়েগে নতুন আলো দেখাচ্ছে সিইপিএ

    Icon
    নিজস্ব প্রতিবেদক
    প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন

    বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করবে বলে মনে করছেন উভয় দেশের কর্মকর্তারা। তবে এ চুক্তির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বা ১০ বছরে বাংলাদেশ কত বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) পাবে বা কত অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানি করতে পারবে, সে বিষয়ে এখনই কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা দিতে রাজি হয়নি সরকার।

    মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সিইপিএ নেগোসিয়েশন কনক্লুশন সিরিমনি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। আগামী তিন, পাঁচ বা ১০ বছরে কত এফডিআই আসবে বা কত রপ্তানি বাড়বে এমন প্রশ্নের জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, সিইপিএকে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে একটি ‘মহাসড়ক’ নির্মাণের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

    আগে এমন অবকাঠামো না থাকায় অনেক কোম্পানির জন্য বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ কঠিন ছিল। এখন প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আরও আস্থার সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

    তিনি বলেন, সরকার কোনো কোম্পানিকে নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগে বাধ্য করতে পারে না। তবে এ চুক্তির ফলে বিনিয়োগ সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরও জোরদার হবে। এতে কোরিয়ার কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করে এখান থেকে কোরিয়াসহ আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে আগ্রহী হবে।

    ইয়ো হান-কু আরও বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে পরিবর্তনের কারণে বহু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এখন উৎপাদন কেন্দ্রে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। সিইপিএ সেই সম্ভাবনাকে আরও দৃশ্যমান করবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কখনো একমুখী নয়। এটি উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হওয়ার কথা। কোরিয়া যেমন তাদের রপ্তানি বাড়ানোর প্রত্যাশায় এ চুক্তিতে এসেছে, তেমনি বাংলাদেশও কোরিয়ায় রপ্তানি বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েই এতে অংশ নিয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যভিত্তিক এ চুক্তির পাশাপাশি আরও ১০ থেকে ১২টি দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতিও চলছে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তরুণ কর্মক্ষম জনশক্তি। দেশের ১১ কোটির বেশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর গড় বয়স মাত্র ২৭ বছর, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুবিধা। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে গেলেও বাংলাদেশে রয়েছে তরুণ শ্রমশক্তির প্রাচুর্য।

    আগামী তিন, পাঁচ বা ১০ বছরে কত এফডিআই আসবে বা কত রপ্তানি বাড়বে এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিতে চায় না। সরকারের দায়িত্ব হলো বিনিয়োগের পথ সহজ করা, কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি করা এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি নিশ্চিত করা। বিনিয়োগ ও ব্যবসার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাতই নেবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর-সম্পর্কিত উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে উভয় পক্ষ আশা করছে।

    আরও পড়ুন